আশরাফুল হকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে র্যাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর কাওরানবাজারে অনুষ্ঠিত র্যাবের ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে জানানো হয়েছে, রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে দুটি ড্রামে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার বন্ধু জরেজুল ইসলাম ও প্রেমিকা শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও ডিবি।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, হত্যার পেছনে পরকীয়া বিরোধ, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা বা পূর্বশত্রুতা— কোনটি মূল কারণ তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিশ্চিত করা হবে। হত্যার পর জরেজুল ও শামীমা একই ঘরে রাত কাটিয়েছেন।
শামীমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনির আখড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে: আশরাফুলের পায়জামা ও পাঞ্জাবি, রক্তমাখা দড়ি, চাপাতি, অন্যান্য আলামত, সাথে তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ও ছবি জব্দ করা হয়েছে।
লে. কর্নেল ফায়েজুল জানান, হত্যার পর জরেজুল চাপাতি ও দুটি ড্রাম সংগ্রহ করে লাশ গোপন করেন। পরদিন লাশ খণ্ড করে দুটি ড্রামে ভরে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের কাছে ফেলে দেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর তারা অটোরিকশা যোগে সায়দাবাদের দিকে রওনা হন। পরে শামীমাকে কুমিল্লায় চলে যেতে বলা হয়। শামীমা কুমিল্লায় যাওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার রাত ১০টায় কুমিল্লা থেকে জরেজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রংপুরের একই এলাকার হওয়ায় আশরাফুল ও জরেজুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। জরেজুলের মাধ্যমে আশরাফুলের পরিচয় হয় শামীমার সঙ্গে। ধীরে ধীরে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ঢাকার দক্ষিণ ধনিয়ায় জরেজুল যে বাসা ভাড়া নেন, সেখানে শামীমাও এসে ওঠেন।
সম্পর্কের জটিলতা ও শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ক্ষিপ্ত হয়ে জরেজুল আশরাফুলকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় শামীমাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে নীল রঙের দুটি ড্রামে ২৬ খণ্ড মরদেহ পাওয়া যায়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
আশরাফুল হক রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ১০ বছরের একটি মেয়ে ও সাত বছরের একটি ছেলে রেখে গেছেন। তার বাবার নাম মো. আবদুর রশীদ।