আল্লাহর জ্ঞান ও মানুষের জ্ঞান

আল্লাহর জ্ঞান ও মানুষের জ্ঞান

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তির প্রতি নির্ভরশীল হতে হতে কিছু মানুষ এমন পর্যায়ে চলে গেছে, তাদের কাছে মনে হয়, মানুষের তৈরি প্রযুক্তি বা বিজ্ঞানই সবকিছুর চূড়ান্ত সমাধান। তাই কিছু মানুষ (নাউজুবিল্লাহ) কোরআন হাদিসের বাণীকেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দিতে বিচার করতে চায়। যা, বোকামি বৈ কিছু নয়। কারণ একমাত্র মহান আল্লাহই সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই সবকিছুর পরিপূর্ণ জ্ঞান পরিবেষ্টিন করে আছেন। তিনি মানুষের জন্য যতটুকু উন্মুক্ত করেন, মানুষ ঠিক ততটুকুই জানতে পারে। শুধু মানুষ কেন, পৃথির অন্য কোনো প্রাণী বা প্রযুক্তি কোনো কিছুই তাঁর উন্মুক্ত করা জ্ঞানের বাইরে কিছু জানে না। জানা সম্ভব না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব, (সমগ্র সৃষ্টির) নিয়ন্ত্রক, যাঁর কখনও তন্দ্রা পায় না এবং নিদ্রাও নয়, আকাশমণ্ডলে যা-কিছু আছে (তাও) এবং পৃথিবীতে যা-কিছু আছে (তাও) সব তাঁরই। কে আছে, যে তাঁর সমীপে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তিনি সমস্ত বান্দার পূর্ব-পশ্চাত্ সব অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো বিষয় নিজ আয়ত্তে নিতে পারে না কেবল সেই বিষয় ছাড়া, যা তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসি আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। আর এ দুটোর তত্ত্বাবধানে তাঁর বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না এবং তিনি অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও মহিমাময়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অগণিত জ্ঞান মানুষের পরিধির বাইরে রয়েছে। এর বেশির ভাগ রহস্যই এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পরিধির বাইরে। আর যেগুলোর কাছাকাছি যাওয়ার কিঞ্চিত জ্ঞান মহান আল্লাহ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করায় মানুষ নিজেদের সবজান্তা ভাবতে শুরু করেছে, সেগুলোর অনেক বিষয়ও আমরা বাস্তবে পরিপূর্ণ জানি না।  হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, গায়েবের চাবি হলো পাঁচটি, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। (১) কেউ জানে না যে, আগামীকাল কী ঘটবে। (২) কেউ জানে না যে, আগামীকাল সে কী অর্জন করবে। (৩) কেউ জানে না যে, মায়ের গর্ভে কী আছে। (৪) কেউ জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে। (৫) কেউ জানে না যে, কখন বৃষ্টি হবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৩৯)

কারো কারো মনে হতে পারে, হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি গায়েবের খবরতো মানুষ এখন জানতে পারে। এর জবাব হলো, যতটুকু মহান আল্লাহ জানার সুযোগ রেখেছেন, ঠিক ততটুকুই পারে। তবে তাও শতভাগ নিশ্চিত হয়ে নয়। যেমন— এই পাঁচটির প্রথমটি হলো, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না কিয়ামত কবে হবে। দ্বিতীয়টি হলো, কোনো প্রাণীই জানে না, সে আগামীকাল কী অর্জন করবে, তার কাজ কর্ম ভালো হবে না মন্দ হবে, সুন্দর হবে না কুিসত হবে। প্রতিটি প্রাণী কী উপার্জন করবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তৃতীয় বিষয়টি হলো— কেউ জানে না যে মায়ের গর্ভে কী আছে। যখন শুক্রানুটি মায়ের গর্ভে গোশতে পরিণত হচ্ছে, তা ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে, শ্যামবর্ণ হবে নাকি ফর্সা হবে, পূর্ণাঙ্গ হবে নাকি অপূর্ণাঙ্গ হবে, নেককার হবে নাকি বদকার হবে ইত্যাদি তথ্য কেউই জানে না। এসব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে একমাত্র আল্লাহই জানেন।

তবে গঠন-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে তা আর গায়েব থাকে না এবং চিকিত্সা-বিজ্ঞানের পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু কিছু বিষয় জানা সম্ভব। যতটুকু বোঝার সুযোগ মহান আল্লাহ রেখেছেন। চতুর্থ, জ্ঞানটি হলো, কেউ জানে না যে, সে কোথায় মারা যাবে। শুধু মানুষ নয়, কোনো প্রাণীই জানে না সে কোন ভূমিতে মৃত্যু বরণ করবে। মানুষ তার মৃত্যুর সময় বা মৃত্যুর স্থান সম্পর্কে জানে না,  সে কি সাগরে মারা যাবে নাকি স্থলে, সমতলে বা পাহাড়ে, কোথায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে, এ তথ্য কারো কাছে নেই। পঞ্চম, কেউ জানে না বৃষ্টি কবে নামবে, যতক্ষণ না এর লক্ষণ দেখা দেয়। আবহাওয়াবিদেরা যে পূর্বাভাস দেন, তা কেবল সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে; নিশ্চিত জ্ঞান নয়। তারা মহান আল্লাহর সৃষ্ট বিভিন্ন কারণ ও উপকরণ থেকে অনুমান করতে পারে মাত্র। কিন্তু এসব কারণ প্রকাশের পূর্বে কেউই এর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত জ্ঞান রাখে না।

তাই আমাদের উচিত, সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া। সবকিছুর নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ।