তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ-পরিচালকের ঢাকাবিলাস
সংগ্রহীত ছবি
গাজীপুর মহানগরীর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালকের বসবাসের জন্য রয়েছে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। সাড়ে ছয় কোটি টাকায় নির্মিত বিলাসবহুল বাড়ি দুটিতে আছে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা। প্রায় দেড় বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও বাড়ি দুটি পড়ে আছে খালি। কারণ অধ্যক্ষ ও পরিচালকের কেউই এখানে থাকতে চান না।
তাঁরা পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। ঢাকা থেকেই সরকারি গাড়িতে চড়ে যাতায়াত করেন গাজীপুরের কর্মস্থলে। অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে বাড়ি দুটি। অন্যদিকে ঢাকায় যাতায়াতে অধ্যক্ষ ও পরিচালকের গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
অভিযোগ উঠেছে, ‘বাড়িভাড়া’ কর্তন ঠেকাতেই নির্ধারিত বাংলো বাড়িতে উঠছেন না এই দুই কর্মকর্তা।
গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তিন কোটি ২২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় অধ্যক্ষের ও তিন কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় পরিচালকের জন্য আলাদা বাড়ি নির্মাণ করেছে জেলা গণপূর্ত বিভাগ। কাজ শেষ হয় গত বছরের জুনে। তারপর ভবন বুঝে নিতে প্রকল্প পরিচালক, কলেজ অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালককে একাধিকবার চিঠি দেয় গণপূর্ত বিভাগ।
সর্বশেষ গত জুলাইয়েও ভবন বুঝে নিতে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ভবনগুলো বুঝে নেওয়া হয়নি। ফলে নষ্ট হচ্ছে ভবনের মূল্যবান স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক সামগ্রী। গত মঙ্গলবার ভবন দুটিতে গিয়ে দেখা গেছে, বাইরে থেকে দরজায় তালা দেওয়া রয়েছে। স্থানে স্থানে ঝুলছে মাকড়শার জাল।
পার্কিংয়ে রাখা রেন্ট এ কারের একাধিক গাড়ি পড়ে আছে।
কলেজ ও হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক কালের কণ্ঠকে জানান, অধ্যক্ষ ও পরিচালকের সরকারি বাড়িতে থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি বাসায় থাকলে বেতন থেকে বাড়িভাড়া কাটা হবে। তাই অধ্যক্ষ ঢাকার উত্তরায় পরিবার নিয়ে বাস করেন। একইভাবে হাসপাতালের পরিচালকেরও সরকারি বাড়িতে থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তিনিও একই কারণে সরকারি বাড়িতে না থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নিজের ফ্ল্যাটে থাকছেন। অফিসের কাজ ছাড়া সরকারি গাড়ি নিয়ে গাজীপুরের বাইরে যাওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু অধ্যক্ষ ও পরিচালক সরকারি গাড়ি নিয়ে ঢাকার বাসা থেকে প্রতি কর্মদিবসে গাজীপুরে আসা-যাওয়া করেন। হাসপাতালের বাইরে সরকারি গাড়ি রাখার নিয়ম না থাকলেও রাতে গাড়ি রাখা হচ্ছে তাঁদের ঢাকার বাসার গ্যারেজে। ঢাকার বাসায় যাতায়াতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণেও ব্যয় হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান জানান, ভবন দুটি বুঝে নিতে গণপূর্ত বিভাগ চিঠি দিয়েছে কলেজ অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের পরিচালকের কাছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. জোবাইদা সুলতানার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত গত বুধবার রাতে কল রিসিভ করা হলে রাহেলা পরিচয় দিয়ে অন্য আরো একজন বলেন, ম্যাডাম ব্যস্ত।
কলেজের প্রধান সহকারী মো. জামাল উদ্দিন জানান, বাইরের মূল গেট না থাকায় বাড়িতে উঠছেন না অধ্যক্ষ। ভবন বুঝে নেওয়ার চিঠির কথা স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্মাণকাজ শিডিউল মোতাবেক হয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ভবন বুঝে নেওয়া হবে।
তবে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেবজুল কবির কালের কণ্ঠকে জানান, বিলাসবহুল বাড়ি দুটি খালি পড়ে থাকায় মূল্যবান ফিটিংস নষ্ট হচ্ছে। গণপূর্তের কাজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্তের সুযোগ নেই। এটি ভবন বুঝে না নেওয়ার অজুহাত।
’