রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গ্যাসসংকট নিরসনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, ভোগান্তি
সংগ্রহীত ছবি
বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিনের গ্যাসসংকট নিরসনের দাবিতে গতকাল সোমবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ বাসিন্দারা। প্রায় কয়েক ঘণ্টা অবরোধের কারণে রাজধানীর ব্যাপক এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যায়।
সকাল ১১টার পর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করে।
দনিয়ার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রায় ছয় মাস ধরে গ্যাসসংকটে ভুগছি। তিতাসের কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। বরং গত এক মাসে সমস্যা আরো বেড়েছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।’
বিক্ষোভকারীরা জানায়, যাত্রাবাড়ীর দনিয়া, রসুলপুর ও শেখদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে টানা গ্যাসসংকট চলছে। অনেক দিন একবেলাও গ্যাস পাওয়া যায় না। তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের পরও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না দেখে এবং গতকাল সকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে তারা সড়কে নামতে বাধ্য হয়।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ‘গ্যাসের দাবিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। গতকাল তারা সড়কে নেমে এলে যাত্রাবাড়ী-ঢাকার অন্যতম প্রবেশপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।’
তিনি আরো জানান, পুলিশ আলোচনা করে বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর পর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তারা সড়ক ছেড়ে চলে যায়। তবে দীর্ঘ অবরোধের কারণে অন্যান্য সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১১টা থেকে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ও আশপাশের সড়কে বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেয়। প্ল্যাকার্ড আর স্লোগানে তারা গ্যাসসংকট সমাধানের দাবি জানায়।
দক্ষিণ বিভাগের একজন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় এবং সমাধান না হলে আরো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়। পরে পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তারা অবরোধ তুলে নেয়।