ওয়াশিংটনে বন্যা, ঘরবাড়ি এবং ছাদে আটকা পড়েছে মানুষ

ওয়াশিংটনে বন্যা, ঘরবাড়ি এবং ছাদে আটকা পড়েছে মানুষ

ছবিঃ সংগৃহীত।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টি হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অনেক পরিবার ছাদে আটকা পড়েছে, সেতু ভেসে গেছে এবং কমপক্ষে দুটি বাড়ি নদীতে ভেসে গেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। ওয়াশিংটন এখন জরুরি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

হাজার হাজার মানুষকে ঘর থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে। গভর্নর বব ফার্গুসন বলেছেন, আরেকটি নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, তাই সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মানতে হবে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের রাজ্যের অনেকেই আগেও বড় বন্যা দেখেছেন, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।’

সিয়াটলের উত্তরে স্ক্যাগিট নদীর তীরের প্রায় ৭৮ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

কারণ নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। বন্যায় পুরো অঙ্গরাজ্যের অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি সেতু প্লাবিত হয়েছে, কিছু বড় রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। কিছু রাস্তার কোনো বিকল্প পথও নেই।

উদাহরণ হিসেবে স্টেট রুট ৪১০-এর বড় একটি অংশ বন্ধ হয়ে গেছে।

সিয়াটলের পূর্বে ইন্টারস্টেট ৯০-এর একাংশ ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে। ছবিতে দেখা গেছে, গাছপালা, কাদা আর পানিতে রাস্তা ঢেকে গেছে এবং গাড়িগুলো আটকা পড়েছে।

এদিকে উত্তরে মার্কিন–কানাডা সীমান্তের কাছে সুমাস, নুকস্যাক এবং এভারসন শহরগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়েছে এবং মানুষকে সরে যেতে বলা হয়েছে। সুমাস সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অ্যামট্র্যাক সিয়াটল–ভ্যাঙ্কুভারের ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছে।

সুমাসের মেয়র ব্রুস বোশ বলেছেন, মাত্র চার বছর আগে হওয়া একই ধরনের বন্যার পর এবার শহরের বেশিরভাগ জায়গা আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় এক নারী মারিয়া ব্রোসা বলেন, পানি ঢোকার পর দ্রুত থেমে গেলেও প্রবল স্রোত তার বাড়ির দেয়ালে ধাক্কা দিতে থাকে। তিনি বলেন, ‘ভাবিনি পানি এতো উঁচুতে উঠবে।’

গত কয়েকদিন ধরে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ও বাড়ি থেকে আটকা পড়া মানুষকে উদ্ধার করছে। বৃহস্পতিবার সুমাসে হেলিকপ্টার দিয়ে ছাদে আটকা পড়া দুটি পরিবারকে উদ্ধার করা হয়। শহরের ফায়ার স্টেশনে তিন ফুট পানি ঢুকে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারি বর্ষণ তীব্র হচ্ছে।