নাসার নতুন প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান

নাসার নতুন প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান

জ্যারেড আইজ্যাকম্যান

অবশেষে নতুন প্রধান পেল যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটির দায়িত্ব নিচ্ছেন বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে ৬৭–৩০ ভোটে জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে নাসার নতুন প্রধান হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী এমন সময়ে নাসার দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন একদিকে তাকে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ও অন্যদিকে লোকবল কমে যাওয়া সংকুচিত এক সংস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

তবে আইজ্যাকম্যানের জন্য এটিই প্রথম সুযোগ নয়। এ বছরের শুরুতে এই পদের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। বিস্ময়কর বিষয় হল, ওই সময় আইজ্যাকম্যানের নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

অতীতে প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের অর্থ অনুদান দিয়েছিলেন আইজ্যাকম্যান– এমন খবর প্রেসিডেন্টের কানে পৌঁছানোর পরই তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে নিজের এই সিদ্ধান্তকে ‘অতীত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা’র ফল বলেও বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।

ঠিক ওই সময়েই মাস্কের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিরোধও চরম আকার ধারণ করেছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে নভেম্বরে আবারও নাসার প্রধান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন তিনি।

মহাকাশ গবেষণা সংশ্লিষ্ট সবার কাছেই নতুন এই নাসা প্রধানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ট্রাম্পের মনোনীত অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয়ক কর্মকর্তাদের তুলনায় আইজ্যাকম্যানকে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রমই বলা চলে।

এদিকে জ্যারেড আইজ্যাকম্যানকে নিয়ে সেনেটর মারি ক্যান্টওয়েল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নাসার বর্তমান অস্থির সময়ে তিনি ঠান্ডা মাথায় ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

নাসার নতুন এই প্রশাসক ব্যক্তিগত অভিযানে ইতোমধ্যে দুইবার মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত এক নথিতে তিনি নাসার দায়িত্ব পেলে নিজের তিনটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরেন।

আইজ্যাকম্যানের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাঁদ, মঙ্গল এবং মহাকাশের গভীরে মানববাহী অভিযান পরিচালনা করা, সীমিত বাজেটের মধ্যেই নাসার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে তোলা এবং বিভিন্ন শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে খরচ কমিয়ে আনা।