মৌসুমের প্রথম তুষারপাত কাশ্মীরে, বরফের চাদরে ঢাকল উপত্যকা

মৌসুমের প্রথম তুষারপাত কাশ্মীরে, বরফের চাদরে ঢাকল উপত্যকা

সংগৃহীত ছবি

চলতি শীত মৌসুমের প্রথম তুষারপাত শুরু হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে। শনিবার রাত থেকে উপত্যকার বিস্তীর্ণ উঁচু এলাকায় শুরু হওয়া তুষারপাত ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলকে ঢেকে ফেলেছে সাদা বরফের চাদরে। যত দূর চোখ যায় শুধু বরফ আর বরফ। এতে যেমন আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা, তেমনি দীর্ঘদিনের শুষ্কতার পর স্বস্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারাও।

শনিবার রাত থেকে গুরেজ উপত্যকা, ওয়ারওয়ান উপত্যকা, সিন্থান টপ, রাজদান পাস, সাধনা টপ, জোজিলা ও সোনমার্গসহ দক্ষিণ ও উত্তর কাশ্মীরের বিভিন্ন উঁচু অঞ্চলে তুষারপাত হয়েছে। পাশাপাশি লাদাখ অঞ্চলের দ্রাস এবং কারগিল জেলার কয়েকটি এলাকাতেও নতুন করে তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রায় দুই মাস ধরে কাশ্মীরে কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত না হওয়ায় শীতকালেও তীব্র শুষ্কতা বিরাজ করছিল। এতে পানিসংকট, কৃষি এবং পর্যটন সবকিছুতেই উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই তুষারপাত স্থানীয়দের জন্য এক বড় স্বস্তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে আগামী কয়েক দিনে তুষারপাত আরও বাড়তে পারে। রবিবার উঁচু এলাকাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারি তুষারপাতের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া আগামী দুই দিনে এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এই ভেজা আবহাওয়া ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, এই তুষারপাত কাশ্মীরে জেঁকে বসা শুষ্ক শীতের প্রকোপ অনেকটাই কমাবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতেও ফিরবে নতুন আশার আলো। কারণ তুষারপাতের অভাবে চলতি মৌসুমে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এরই মধ্যে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 

শনিবার জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ কাশ্মীর উপত্যকা ও জম্মু অঞ্চলের শীতকালীন প্রস্তুতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘আমি উভয় বিভাগের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছি, বিশেষ করে যেসব এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপত্যকার সব জেলা এবং জম্মুর উঁচু এলাকাগুলোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে তুষারপাত শুরু হলে আমাদের আসল পরীক্ষা তখনই শুরু হবে।’