ইউক্রেন যুদ্ধ: পুতিন আসলে কি চান?
সংগ্রহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন দখলের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। বরং তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো পুরো ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং সাবেক সোভিয়েত সাম্রাজ্যের কিছু ইউরোপীয় ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা।
রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ছয়টি সূত্র।
এই মূল্যায়ন পুতিনের সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি দাবি করে আসছেন যে রাশিয়া ইউরোপের জন্য কোনো হুমকি নয়। একই সঙ্গে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার শান্তি আলোচক দলের বক্তব্যের বিপরীত, যারা বলেছেন পুতিন যুদ্ধের ইতি টানতে আগ্রহী।
সূত্র জানায়, সর্বশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তৈরি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই অবস্থান ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তা ব্রিটেনসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য মাইক কুইগলি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য সব সময়ই বলছে পুতিন আরও বেশি চায়। ইউরোপীয়রা এটা বিশ্বাস করে। পোল্যান্ড পুরোপুরি নিশ্চিত। বাল্টিক দেশগুলো মনে করে, তারাই পরবর্তী লক্ষ্য।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ডনবাস অঞ্চলের লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের বড় অংশ, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের কিছু এলাকা এবং ২০১৪ সালে দখল করা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ক্রিমিয়া উপদ্বীপ।
পুতিন দাবি করেছেন, এই চারটি প্রদেশ ও ক্রিমিয়া রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে চাপ দিচ্ছেন যেন তারা দোনেৎস্কের যে অল্প অংশ এখনো নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে, যা প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির অংশ। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটির অধিকাংশ নাগরিক এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একটি শান্তি চুক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে ব্রিফ করে বলেছেন রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে বড় পরিসরের যুদ্ধ এড়াতে চায়। ইউক্রেনে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে তারা বর্তমানে পুরো ইউক্রেন, তো দূরের কথা ইউরোপ দখলের সামর্থ্য রাখে না।
তবে গোয়েন্দা মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে, সামরিক সক্ষমতা সীমিত হলেও পুতিনের কৌশলগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।