এখনও মার্কিন পারমাণবিক যন্ত্রটি নিয়ে আতঙ্কে ভারত!
সংগ্রহীত ছবি
হিমালয়ের বুকে আজও রহস্য হয়ে রয়ে গেছে শীতল যুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়। প্রায় ছয় দশক আগে উত্তরাখণ্ডের নন্দাদেবী পর্বতের দুর্গম শিখরে হারিয়ে যায় সিআইএ-র একটি প্লুটোনিয়ামচালিত পরমাণু জেনারেটর! যার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
১৯৬৪ সালে চিন লপ নুরে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করার পর ভারত ও আমেরিকা একযোগে বেজিংয়ের পরমাণু ও সামরিক গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৯৬৫ সালে সিআইএ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আইবি যৌথ ভাবে ‘অপারেশন হ্যাট’ নামের এক গোপন অভিযানে নন্দাদেবীর চূড়ায় নজরদারি যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রায় ২৫,৬৪৩ ফুট উচ্চতায় ৫৬ কেজি ওজনের যন্ত্র বহন করে নিয়ে যান ভারতীয় ও মার্কিন পর্বতারোহীদের একটি দল। যন্ত্রটিতে ব্যবহৃত প্লুটোনিয়ামের পরিমাণ ছিল হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার প্রায় অর্ধেক। প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র তুষারঝড়ের কারণে শেষ মুহূর্তে চূড়ার কাছাকাছি একটি পাথুরে ফাটলে যন্ত্রটি রেখে নীচে নামতে বাধ্য হন অভিযাত্রীরা। কিন্তু পরের বছর সেখানে ফিরে গিয়ে দেখা যায়, যন্ত্রটি সম্পূর্ণ উধাও। তাতে আতঙ্ক ছড়ায় গোয়েন্দা মহলে, কারণ প্লুটোনিয়াম প্রকৃতিতে মিশে গেলে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।
পরবর্তী কয়েক বছরে হেলিকপ্টার ও তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চালানো হলেও কোনও সূত্র মেলেনি। প্লুটোনিয়ামের আয়ু প্রায় ১০০ বছর হওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও এটি সক্রিয় থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে চামোলীর হড়পা বান, হিমবাহ গলন ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ঘটনার সঙ্গে এই হারানো পরমাণু যন্ত্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এর পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই, তবু নন্দাদেবীর তুষারের নীচে চাপা পড়ে থাকা এই শীতল যুদ্ধের ছায়া আজও বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে।