পঞ্চগড়ে শীতের দাপট, সংকটে পাথর শ্রমিকরা

পঞ্চগড়ে শীতের দাপট, সংকটে পাথর শ্রমিকরা

সংগৃহীত ছবি

কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ছে পঞ্চগড়। হিমালয় থেকে বয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে হাড় কনকনে ঠান্ডা বিরাজ করছে জেলায়। তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও স্থবিরতা। হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।

জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা ৫০ নদ-নদী থেকে পাথর-বালি উত্তোলনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। অন্যদিকে, পাথর, বালি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজে কর্মসংস্থানে জড়িত আরও ৩০ হাজার মানুষ। কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ আর প্রচণ্ড ঠান্ডার কবলে তাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ঠান্ডা বাতাস আর শিশির ভেজা কুয়াশায় দিন শুরুর অনেক পরে সূর্যের দেখা মিললেও উত্তাপ মেলে না। ঠান্ডায় সময়মতো কাজে যেতে পারছেন না শ্রমিকরা। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে।

ফলে পাথর, বালি উত্তোলন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা গভীর সংকটে পড়েছেন। তারা বলছেন, আয়-রোজগার কমে গেছে। গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন হাজার টাকা আয় হলেও বর্তমানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় দিন পার করতে হচ্ছে। এদিকে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। 

তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার পাথর শ্রমিক নজিবুল ইসলাম জানান, অন্যসময় ভোর থেকে ডাহুক নদ থেকে পাথর উত্তোলন করি। তখন দিনে ১ হাজার টাকা আয় হতো। এখন বেলা ১১টা থেকে ১২টার দিকে কাজে যেতে হয়। আবার বিকেলেই কাজ শেষ করতে হয়। যার মাধ্যমে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। সংসার চালানো, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। 

গিতালগছ গ্রামের করিমুল ইসলাম জানান, 'অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সংসারের খরচ চালাবে কীভাবে, ওষুধ কিনতেই আয়ের টাকা শেষ হয়ে যায়। আমরা কোনোদিন কম্বল পাইনি, কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাই না।'

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ দিন ধরে দেশের অবকাঠামো নির্মাণে পাথর-বালি শ্রমিকের অবদান থাকলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।  

জেলা প্রশাসন বলছে এ বছর পাথর শ্রমিকদের তালিকা করে অনুদানের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, 'প্রতিবছর শীতে শ্রমিকদের আয় রোজগার কমে যায়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শীতের কাপড়ের সংকটও রয়েছে তাদের। তাদের সহযোগিতায় আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।'