ফলের আড়তে ভেজাল বিরোধী অভিযান, ৯ জনকে অর্থদণ্ড
ফাইল ছবি
রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে ফলের আড়তে অতিমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ক ফল পাকানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ‘কেমিক্যালে পাকছে ফল’ শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রিন্ট, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুকের নেতৃত্বে রাজেন্দ্রপুর ফলের আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে বিভিন্ন আড়তে গিয়ে দেখা যায়- বালতিভর্তি পানিতে অতিমাত্রায় ইথোফেন মিশিয়ে অপরিপক্ক কলাসহ বিভিন্ন ফল কৃত্রিমভাবে পাকানো হচ্ছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে একাধিক অসাধু ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়। তবে এসময় কেমিক্যাল মিশিয়ে ফল বিক্রির দায়ে একজন ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযানে আটক ব্যবসায়ী ও আড়তের ম্যানেজারসহ মোট নয়জনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কেমিক্যাল মেশানো ফল জব্দ করে তা বিনষ্ট করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম জানান, কেরানীগঞ্জের আড়তে কেমিক্যালে অপরিপক্ক ফল পাকানো হচ্ছে। কলা পাকাতে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অপরিপক্ক ফল হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এসব রাসায়নিকযুক্ত কলা কিনে বাড়িতে নিয়ে খেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, ফল পাকাতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ক্ষতিকর কেমিক্যাল মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের কারণ হতে পারে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ, বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার আলী আকবর সুহেল এবং কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসমাত আহমেদ ও মাহবুব রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।