রংপুর সদর–৩ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু
সামসুজ্জামান সামু
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন আংশিক) সংসদীয় আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটির আহবায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা সামসুজ্জামান সামু। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।
এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তকে রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে সামসুজ্জামান সামু রংপুরের তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মাঠের রাজনীতি থেকে কেন্দ্রের আস্থা এমনটাই মনে করছেন তারা।
সামুকে চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করায় রংপুর মহানগর ও সদর উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ, উচ্ছাস-উদ্দীপনা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা,সামাজিক অবস্থান, দলের প্রতি ত্যাগ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রথমে রংপুর সদর-৩ আসনে মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামুকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে গত ২৪ ডিসেম্বর তাকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় দলটি।
জানা গেছে, রংপুর সদর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সামসুজ্জামান সামু বর্তমানে রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক পদে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জেলার যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির আষ্টেপৃষ্টে বেড়ে ওঠা সামসুজ্জামান সামু ঐহিত্যবাহি কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি এবং পরবর্তীতে রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বে ছিলেন।
তিনি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সম্মুখসারিতে থাকা বিএনপির এই নেতা হাসিনাবিরোধী আন্দোলনেও ছিলেন অগ্রভাগে। তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি ছিলেন।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা হয়। তিনি ২০ বার কারাবরণ করেন। শুধু জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৫ আগস্টের আগে তার নামে ২৫টি মামলা দেওয়া হয়। তার মধ্যে অধিকাংশ মামলায় তিনি প্রধান আসামি বা হুকুমে আসামী ছিলেন।