চসিকে কুকুরকে ভ্যাকসিন প্রদান শুরু

চসিকে কুকুরকে ভ্যাকসিন প্রদান শুরু

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নগরকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে ১৫ হাজার বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাক্সিন প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে নগরীর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে বেওয়ারিশ কুকুরদের ভ্যাক্সিন প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা, উপসচিব রাশেদা আক্তার, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী তারিক আহমেদ, কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ, মাহমুদুল ইসলাম মারূফ, জায়েদ বিন রশিদ, জসীম উদ্দীন হিমেল,  আশরাফি বিনতে মোতালেব, মোরশেদুর রহমান, ইসকান্দর আলম, এড. কানিজ কাউসার, ইকবাল হোসেন, মুর্শিদ আলম প্রমুখ।

চসিক মেয়র বলেন, আমরা চট্টগ্রাম শহরকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যবান নগর গড়তে জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি, কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে জনসাধারণের  উদ্বেগ রয়েছে। এসব সমস্যা মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমাধান করতেই আমরা কুকুর নিধনের পথ পরিহার করে ভ্যাক্সিনেশনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

মেয়র জানান, পরিবেশগত ও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে কুকুর নিধন সম্ভব নয়। এ কারণে ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে।  চলতি মাসের নির্ধারিত ছয় দিনের কর্মসূচিতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১৫ হাজার কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকার আওতায় আনা হবে। কোনো একটি এলাকায় যদি অন্তত ৭০ শতাংশ কুকুর ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আসে, তবে সেখানে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়। এর ফলে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিস্তার কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। যা মূলত জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। তবে সব কুকুরের কামড়েই জলাতঙ্ক হয় না- ভাইরাস বহনকারী কুকুরের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি থাকে। জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, লক্ষ্যহীন দৌড়াদৌড়ি, সবকিছু কামড়ানোর প্রবণতা এবং চলাফেরায় অসুবিধার কথা উল্লেখ করেন। এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সাধারণ মানুষকে ওই কুকুরের কাছ থেকে দূরে থাকার এবং তাৎক্ষণিকভাবে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।