মুনাফিকি থেকে দূরে থাকতে হবে

মুনাফিকি থেকে দূরে থাকতে হবে

প্রতিকী ছবি

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, মুনাফিক হচ্ছে তারা যখন ইমানদারদের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে আমরা ইমান এনেছি, আবার যখন শয়তানের সঙ্গে মিলিত হয় তখন বলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে আছি। আমরা ইমানদারদের সঙ্গে শুধু ঠাট্টা করি মাত্র (সুরা বাকারা, আয়াত ১৪)। রসুল (সা.)-এর যুগে মুনাফিকদের দেখে বোঝা যেত না। তাদের সব আচার-আচরণ ছিল মুসলমানদের মতো।

তারা মসজিদে যেত, নামাজ পড়ত এবং সব মুমিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)  থেকে বর্ণিত,  রসুল (সা.) বলেছেন, যার মধ্যে চারটি স্বভাব বিদ্যমান থাকবে সে মুনাফিক। সাহাবিরা জানতে চাইলেন তা কী? তিনি বললেন, যে মিথ্যা কথা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, চুক্তি করলে তা লঙ্ঘন করে, আর যখন ঝগড়া করে তখন অশ্লীল কথা বলে। (বুখারি শরিফ, ২৪৫৯)।

মুনাফিকরা মুখে ইসলামের পক্ষে কথা বললেও কখনো তারা সত্যিকার অর্থে ইসলামকে ভালোবাসত না। তাদের অন্তরে ছিল ইসলামবিদ্বেষ। আর তারা ছিল সব সময় মিথ্যাবাদী। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, মুনাফিকরা যখন তোমার কাছে আসে তখন তারা বলে হে মুহাম্মদ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি অবশ্যই আল্লাহর রসুল।
  হ্যাঁ আল্লাহতায়ালাও জানেন তুমি নিঃসন্দেহে তাঁর রসুল। কিন্তু আল্লাহতায়ালা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত ০১)। মুনাফিকের চরিত্রের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো সে মিথ্যাবাদী। সুতরাং মিথ্যার হাত থেকে আমাদের সবাইকে বাঁচতে হবে। আমরা যারা নিজেদের মুসলমান বলে দাবি করি এবং মিথ্যা বলার বদ অভ্যাস আছে তাদের এটি অবশ্যই পরিহার করতে হবে।


কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে মিথ্যাই হলো সব পাপের মূল। রসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য মিথ্যাবাদী হওয়া এতটুকুই যথেষ্ট, সে যা শুনে তা সবার কাছে প্রচার করে বেড়ায় (মুসলিম শরিফ, হাদিস নম্বর ৫)। মুনাফিকের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, অঙ্গীকার রক্ষা না করা বা ওয়াদা ভঙ্গ করা। আমাদের সমাজে এ ধরনের লোকের অভাব নেই। বড় নেতা থেকে শুরু করে সমাজের সবচেয়ে নিচু স্তর পর্যন্ত তা বিদ্যমান। আর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো আমাদের মধ্যে কেউ যখন কাউকে কোনো টাকাপয়সা ধার দিই বা কোনো লেনদেন করি। আমরা পাওনাদারদের পাওয়া অর্থ ঠিকমতো পরিশোধ করতে গড়িমসি করি। তাকে হেনস্তা করি। এগুলো মুনাফেকির লক্ষণ।