ইলেকট্রিক চুলায় বিদ্যুৎ খরচ কেমন?

ইলেকট্রিক চুলায় বিদ্যুৎ খরচ কেমন?

ছবি: সংগৃহীত

দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রমবর্ধমান দাম এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের চিত্র বদলে যাচ্ছে। বিকল্প হিসেবে এখন ঘরে ঘরে জায়গা করে নিচ্ছে ইলেকট্রিক চুলা। তবে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বড় একটি কৌতূহল হলো—বিদ্যুৎ চালিত এই চুলাগুলোতে মাসিক বিল কেমন আসে? আজ আমরা পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখব গ্যাসের তুলনায় বিদ্যুৎ কতটা সাশ্রয়ী হতে পারে

ইলেকট্রিক চুলার বিদ্যুৎ খরচ

বিদ্যুৎ খরচের গাণিতিক হিসাব ইলেকট্রিক চুলার খরচ মূলত নির্ভর করে এর ওয়াট ও ব্যবহারের সময়ের ওপর। বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুযায়ী, ১০০০ ওয়াটের একটি চুলা যদি টানা ১ ঘণ্টা চালানো হয়, তবে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সাধারণত আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবারে ১০০০ থেকে ১২০০ ওয়াটের মধ্যে রান্না করা হয়। সেই হিসেবে প্রতিদিন যদি তিন বেলা মিলিয়ে গড়ে ২ ঘণ্টা এই চুলা ব্যবহার করা হয়, তবে দিনে প্রায় ২.৪ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হবে। পুরো মাসের হিসেবে এটি দাঁড়াবে প্রায় ৭২ ইউনিটে।

ইলেকট্রিক চুলার মাসিক ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র 

বিদ্যুৎ বিলের মাসিক খরচের বিষয়টি আবাসিক গ্রাহকদের ধাপ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যদি প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ধরা হয়, তবে ৭২ ইউনিটের জন্য মাসে খরচ হবে প্রায় ৬৪৮ টাকা। এর সাথে ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ যোগ করলে মাসিক বিল ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকার আশেপাশে থাকবে। অন্যদিকে, বর্তমান বাজারে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১৩০৬ টাকা। কিন্তু এই দামে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকাভেদে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারে ছোট পরিবারের এক মাস রান্না চলে। সেই হিসাব করলে ইলেকট্রিক চুলায় গ্যাস সাশ্রয় মাসে হাজার খানেকেরও বেশি।

সাশ্রয়ী রান্নার গোপন কৌশল 

ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করলেই হবে না, সাশ্রয় করতে চাইলে মানতে হবে কিছু নিয়ম। প্রথমত, রান্নার সময় সবসময় ঢাকনা ব্যবহার করা উচিত; এতে তাপ ভেতরে থাকে এবং খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। দ্বিতীয়ত, ইন্ডাকশন কুকারের ক্ষেত্রে এর উপযোগী বিশেষ পাত্র ব্যবহার করলে তাপ অপচয় হয় না। এছাড়া, রান্নার শেষের কয়েক মিনিট আগে চুলা বন্ধ করে দিলে জমা থাকা তাপেই বাকি রান্নাটুকু শেষ করা সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি

নিরাপত্তা ও সুবিধা খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারে নিরাপত্তার ঝুঁকিও অনেক কম। গ্যাসের মতো আগুন লাগা বা গ্যাস লিকেজের ভয় থাকে না। এছাড়া রান্নাঘর থাকে পরিষ্কার ও ধোঁয়ামুক্ত। আধুনিক ইলেকট্রিক চুলার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Automatic Control) অতিরিক্ত বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে, যা পরিবেশ ও পকেট—উভয়ের জন্যই উপকারী।