ছুটির দিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মানুষের ঢল

ছুটির দিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় মানুষের ঢল

ফাইল ছবি

ঢাকার পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। আজ শুক্রবার মেলার প্রথম ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই দর্শনার্থীর ঢল শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলা মুখরিত হয়ে ওঠে। বিকেলের দিকে পুরো প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং কেনাকাটা উপভোগ করেন।

তাদেরই একজন সোনারগাঁওয়ের খিদিরপুর থেকে আসা গৃহবধূ শ্রাবণী আক্তার বলেন, 'পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলা উপভোগ করছি। খোলামেলা পরিবেশে আয়োজিত মেলা দেখে সবাই খুশি।'

ডেমরা থেকে আসা সদ্য বিবাহিত দম্পতি ছাবিবর হোসেন ও শান্তা মনি বলেন, 'মেলার সুন্দর পরিবেশ আমাদের খুবই ভালো লেগেছে। আজকে টুকটাক কিছু কেনাকাটা করব। পরে আবারও আসব।'

রূপগঞ্জের ভুলতা থেকে আসা গৃহবধূ তানিয়া শিকদার বলেন 'কয়েকদিন ধরে মেয়েটি মেলায় আসতে চাইছিল। শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে আজ আসতে পেরে সবাই আনন্দ পাচ্ছি।'

বাণিজ্য মেলায় ইলেকট্রনিক্স, আসবাবপত্র, টেক্সটাইল, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রসাধনী, কার্পেটসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পণ্য স্থান পেয়েছে। শাড়ি, থ্রি-পিস, ইমিটেশনের গয়না, ইলেকট্রনিক পণ্য ও গৃহস্থালি সামগ্রীর স্টলে বেচাকেনা হচ্ছে।

ঢাকাই জামদানি হাউসের কর্ণধার নাদিম হোসেন বলেন, মেলা শুরুর এ কয়দিন বেচাকেনা তেমন ছিল না, আজ শুক্রবার মেলায় ক্রেতা বেড়েছে, আমাদের বেচাকেনাও শুরু হয়েছে।

দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি রাকেশ চন্দ্র সরকার বলেন, 'দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। আশা করছি, বিক্রিও ধীরে ধীরে বাড়বে।'

এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে। দেশ-বিদেশের উদ্যোক্তাদের ৩২৪টি স্টলে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেলার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করেছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’ প্যাভিলিয়ন, যেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার সুযোগ মিলছে।

মেলায় পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা, শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফিন বলেন, 'পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য দর্শনার্থীর উপস্থিতি সন্তোষজনক। প্রথম ছুটির দিনেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সাড়া পেয়ে আমরা খুশি।'