উত্তপ্ত টেকনাফ সীমান্ত, আটক ৫৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী

উত্তপ্ত টেকনাফ সীমান্ত, আটক ৫৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী

প্রতিকি ছবি

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে আরাকান আর্মির ব্যাপক গুলাগুলিতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসময় পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে ৫৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে জনগণের সহায়তায় আটক করেছে যৌথ বাহিনী। তাদের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। এদের অনেকে গুলিবিদ্ধ।

মিয়ানমার-টেকনাফ সীমান্তে রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু গুরত্বর আহত হয়েছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ শিশু আফনান (১২) ওই গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।

এদিকে শুরুতে স্থানীয় শিশুটি মারা গেছে বলে খবর ছড়িয়ে পরে। নিহতের খবরটি নিশ্চিত করেছিলেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র। নিহতের খবরে বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করে। পরে জেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামী আমিনুর আহমদ আনোয়ারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতাকে শান্ত করতে সহায়তা করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে থাকে।

উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, ঘটনার পর পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টারশেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। তিন দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও থেমে থেমে গুলিবর্ষণ চলছে। অন্যদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীও আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা ও বোমা হামলা চালাচ্ছে। হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ করেন।

উখিয়া-৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি এবং গোলাগুলির বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় রমজান উদ্দিন বলেন, আজ সকালে হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় বেড়িবাঁধে গেলে তিনি বেশ কিছু গুলি দেখতে পান। তখন ওপারে গোলাগুলি হচ্ছিল। এ সময় একটি গুলি এসে পড়ে তাঁর পায়ের কাছে মাটিতে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে সতর্ক করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের টেকনাফের মিয়ানমার সীমান্তে ওপার থেকে আসা গুলিতে গুরুতর আহত শিশুটি মারা যায়নি। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিশুটির সাথে থাকা চাচা মৌলভি শওকত। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মারা যাওয়ার কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। তাকে চট্টগ্রামে মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেঁচে আছে। হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত কী হবে, জানি না।