কেকের নাম ‘ব্ল্যাক ফরেস্ট’ হওয়ার অজানা কাহিনি

কেকের নাম ‘ব্ল্যাক ফরেস্ট’ হওয়ার অজানা কাহিনি

ছবি: সংগৃহীত

কেকের দুনিয়ার ব্ল্যাক ফরেস্ট বেশ পুরনোই বলা যায়। দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। তাইতো ছোট-বড় অনেকেরই প্রিয় কেকের ফ্লেভারের নাম ব্ল্যাক ফরেস্ট। কিন্তু কথা হলো এই কেকের নাম এমন কেন? এর সঙ্গে কি আদৌ কোনো ফরেস্ট বা জঙ্গলের সম্পর্ক রয়েছে? ব্ল্যাক শব্দটিই বা কেন যুক্ত হলো? চলুন এই কেকের নামকরণের পেছনের গল্প আজ জেনে নিই- 

ব্ল্যাক ফরেস্ট কেকের জন্মস্থান জার্মানি। এটি আসলে স্পঞ্জ কেকের স্যান্ডুইচ, যার পরতে পরতে জড়িয়ে থাকে দুধসাদা ক্রিম।

যদিও এই কেকটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিষ্টিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থেকেছে, তবুও এর নাম নিয়ে আজও কৌতূহল ও বিতর্কের শেষ নেই। জার্মানিতেই প্রথম ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক তৈরি করা হয়। দেশটিতে কেকটির নাম দেওয়া হয় ‘শার্জভল্ডার কিরশটোর্টে’। 

চকলেট স্পঞ্জ কেকের প্রতিটি লেয়ারে ভালো মাত্রায় হুইপক্রিম আর চেরির সিরাম দেওয়া হয়। ওপরে চকলেটের কার্ল আর চেরি দিয়ে সাজানো হয়। চকলেট কার্লগুলির জন্য একে দেখতে খানিকটা কালচে মনে হলেও এর সঙ্গে কেকটির নামের কোনো সম্পর্ক নেই

জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত ‘ব্ল্যাক ফরেস্ট’ নামের অরণ্য থেকেই এই কেকের নামকরণ করা হয়েছে। পাহাড় ঘেরা সেই সুন্দর অরণ্য অঞ্চলটিতে চেরির চাষ হতো।

সেই চেরি দিয়ে তৈরি করা হতো এক ধরনের ব্র্যান্ডি। জার্মানিতে যখন প্রথম এই কেক বানানো হয়, তখন তাতে সেই ব্র্যান্ডিও মেশানো হতো। 

অনেকের মতে, সেই অঞ্চলের গ্রাম্য মেয়েরা প্রতি মৌসুমে বনের চেরি ফল তুলতে যেতেন। তাদের পরনে থাকত কালো স্কার্ট, সাদা টপ আর লাল পমপম যুক্ত টুপি। একজন স্থানীয় কেক প্রস্তুতকারক এই পোশাক আর বনের সৌন্দর্যের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেন সেই বিশেষ কেক। যার নাম হয় ‘ব্ল্যাক ফরেস্ট’।