সড়ক প্রশস্তকরণে সাময়িকভাবে অপসারণ বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ভাস্কর্য
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের অনুমতি নিয়েই ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, সড়ক সংস্কারের জন্য নির্ধারিত জায়গার বাইরে মহাসড়কের পাশেই আগের নকশা অনুসরণ করে আরও বড় পরিসরে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ কাজ আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হবে।
ভাস্কর্য অপসারণের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ভাস্কর্য অপসারণের দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করেছে। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই। প্রশাসন জানায়, আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করেই ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। নতুন ভাস্কর্যের আকার হবে ২০ ফুট বাই ২০ ফুট, যেখানে আগেরটি ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য দুই দিন আগে ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান আমাদের গর্ব। তাঁর নামে নির্মিত ভাস্কর্যটি আগের নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ করা উচিত।
ইউএনও মাসুদ রানা আরও বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ভাস্কর্যটি রেখেই উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে। কিন্তু এটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সরাতে হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে। গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। তার স্মৃতি সংরক্ষণে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে এবং মহাসড়কের পাশেও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।