ঘুসের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদণ্ড
ছবিঃ সংগৃহীত।
দামি ব্যাগ আর গয়না্ উপহার নেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী কিমকে বুধবার ঘুষ নেওয়ার এক মামলায় এক বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে থাকা তিনটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে এটি একটি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
আদালত রায়ে বলেন, বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে কিম কন হি ঘুষ হিসেবে দামি উপহার গ্রহণ করেছেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল একটি শ্যানেল ব্যাগ ও একটি গ্রাফ ডায়মন্ড নেকলেস। তবে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ানো এবং স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিনা মূল্যে জনমত জরিপ নেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। প্রমাণের অভাব ও সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
‘দ্বিতীয় আরেকটি শ্যানেল ব্যাগ’ নেওয়ার অভিযোগ থেকেও তিনি মুক্তি পান।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, অভিযোগে উল্লেখ থাকা শেয়ার, ঘুষ ও জরিপের মোট মূল্য ছিল প্রায় ১১৫ কোটি কোরিয়ান উন (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯০ কোটি টাকার সমান)। আদালতের বিচারক উ ইন-সুং বলেন, কিম কন হি নিজের অবস্থান ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং বিশেষ সুবিধার সঙ্গে যুক্ত দামি উপহার গ্রহণ করেছেন।
তবে তিনি উপহার চাননি বা চার্চের কোনো দাবি স্বামীর কাছে পৌঁছে দেননি বলেও আদালত উল্লেখ করেন।
এর আগে গত আগস্টে বিশেষ কৌঁসুলির দপ্তর তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। বিশেষ কৌঁসুলি মিন জুং-কি বলেন, প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে তিনি সহজেই অর্থ ও দামি সামগ্রী গ্রহণ করেছেন।
কিম কন হির বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১০–১২ সালে একটি গাড়ি ডিলারশিপের শেয়ার কারসাজির অভিযোগ বহুদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
২০২১ সালে তিনি জীবনবৃত্তান্তে তথ্য বাড়িয়ে লেখার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি বাতিল করে।
২০২৩ সালে ২ হাজার ২০০ ডলারের একটি ডিওর ব্যাগ গ্রহণের গোপন ভিডিও প্রকাশ হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্নীতিবিরোধী আইনে সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের জীবনসঙ্গীর ৭৫০ ডলারের বেশি উপহার নেওয়া নিষিদ্ধ।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলও কারাগারে। ২০২৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির ঘটনায় বিদ্রোহসহ নানা অভিযোগে তার বিচার চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট দম্পতি একসঙ্গে কারাগারে গেলেন।