শেরপুরের সহিংসতায় জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ইউটিএল’র নিন্দা

শেরপুরের সহিংসতায় জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ইউটিএল’র নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী রেজাউল করিমের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইউটিএল’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ভয়াবহ। অভিযোগ অনুযায়ী বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত এই সহিংসতা শুধু একটি জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং আসন্ন নির্বাচনসহ দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে গুরুতর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা গণতন্ত্র, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য মারাত্মক হুমকি।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতভিন্নতা বা বিরোধের জেরে প্রকাশ্য সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

ইউটিএল অবিলম্বে এ ঘটনার একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। 

এর আগে, গত বুধবার শেরপুর ঝিনাইগাতীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন রেজাউল করিম। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।অবস্থার অবসতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।