উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিলের দাবি
সংগৃহীত
উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের ৩৩ শতাংশ কোটা প্রদানের প্রস্তাবের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুর। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকরা।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে নগরীর শিমুলতলী এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জয়দেবপুর সড়ক প্রদক্ষিণ করে চান্দনা চৌরাস্তায় এসে জড়ো হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সম্প্রতি বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত দাবি সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ওই কমিটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী (দশম গ্রেড) পদের ৩৩ শতাংশ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বরাদ্দ রাখার সুপারিশ প্রদান করে। এই প্রস্তাবকে ‘কারিগরি শিক্ষা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা।
অবরোধ চলাকালে পথসভায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল ও দেশকে অস্থিতিশীল করার হীন উদ্দেশ্যে এই বৈষম্যমূলক কোটা প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র কেড়ে নেওয়ার এই ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সুপারিশ দ্রুত বাতিল না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরে অবরোধ প্রত্যাহার করে তারা নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন- শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে সড়ক ও রেলপথ ‘ব্লকেড’ (অবরোধ) ও রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী অভিমুখে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’।
দেড় ঘণ্টার টানা অবরোধে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের জট সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ।