চুয়েটের হলে মাদক, ৭ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

চুয়েটের হলে মাদক, ৭ শিক্ষার্থীকে শাস্তি

ফাইল ছবি

আবাসিক হলের একটি কক্ষে মাদক পাওয়ায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তিন শিক্ষার্থীকে সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি তাদেরকে হল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও চারজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরও ৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন কমিটির ২৯৯তম সভার (জরুরি) সিদ্ধান্তক্রমে কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলমের স্বাক্ষর করা আলাদা ১১টি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তারেক হুদা হলে রাত ১টায় ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের পরিদর্শক দল ও মাদক প্রতিরোধ কমিটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হলের ১টি কক্ষে তল্লাশি করে গাঁজা পাওয়া যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের শাস্তি দেয়।

এছাড়াও বরাদ্দপ্রাপ্ত নিজ কক্ষে অবস্থান না করে অবরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে থাকার সুযোগ দেয়ায় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে কক্ষ দখল এবং সন্দেহজনক জিনিস দখলে রাখার অভিযোগে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

মাদকের ঘটনায় বহিষ্কৃতদের সবাই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে ছয় মাস এবং অন্য দুজনকে সাময়িকভাবে দুই বছরের জন্য একাডেমিক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনজনকেই আজীবন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুজন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের একজন এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সবাইকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে।

১১ শিক্ষার্থীকেই আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটার মধ্যে ছাত্রকল্যাণ দফতরে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। চাইলে কোনো শিক্ষার্থী ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় স্টুডেন্ট ডিসিপ্লিন কমিটির সভায় উপস্থিত হয়ে স্বপক্ষে ব্যক্তিগত শুনানি করতে পারবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। এর জন্য ১৫ দিনের সময় পাবেন। এর পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’