চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ সফরেও বাধা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি
সংগৃহীত ছবি
চিকিৎসার জন্য বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী ও বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন রাষ্ট্রপতির এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে আমার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল।
সেখানকার হাসপাতালে সার্জারির এক বছর আমার ফলোআপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সময়মতো আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। প্রত্যুত্তরে আমাকে সরাসরি নিষেধ করে দেওয়া হয়।’
রাষ্ট্রপতি জানান, একইভাবে লন্ডনস্থ ক্যামব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল।
সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রতিবারই আমাকে জানানো হয়, যদি প্রয়োজন হয়, বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করবেন, তবু বিদেশে যাওয়া যাবে না।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা ১৪ বার বিদেশে গেছেন, অথচ আমি চিকিৎসার জন্য যেতে পারিনি। মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য; আমি ভেঙে গিয়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি।
’
বঙ্গভবনে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে আয়োজন করি, জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু তিনি আসেননি।’
এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ধরাবাধা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়, ‘আমাকে সরিয়ে দিতে পারলে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। আর এটা করতে পারলেই নির্বাচন বিলম্ব করানো বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেতো। নিজেদের মনমতো রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছে তাই করা যায়- এই ভাবনা থেকেই আমার ওপর মানসিক পীড়ন চালিয়েছেন তাঁরা।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি ভেঙে গিয়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি। এতে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। বসাতে পারলে ওই নির্বাচন বিলম্ব বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেতো। নিজেদের রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছে তাই করা যায়। এই ভাবনা থেকে।