যুদ্ধের ছায়ায় ইরান: গুপ্তহত্যা হলে রাষ্ট্র চালাবেন লারিজানি
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে। যুদ্ধ বা শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সত্যি যদি তেহরানে আক্রমণ করে বা গুপ্ত হত্যা করে এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন তার বিশ্বস্ত সহযোগী আলী লারিজানিকে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনি চার স্তরের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করেছেন। অর্থাৎ কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হলে কে কে পরপর দায়িত্ব নেবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করা আছে। এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের সম্ভাব্য চারজন উত্তরসূরির নাম নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
আলী লারিজানি বর্তমানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (দেশের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তকারী সংস্থা) সেক্রেটারি। গত আগস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে এই পদে নিয়োগ দেন। লারিজানি আগে পার্লামেন্ট স্পিকার ছিলেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান ছিলেন এবং পারমাণবিক আলোচক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তির অন্যতম স্থপতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা তিনি নিহত হলে একদল ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা যাবে। তাদের মধ্যে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি, আলী আসগর হেজাজি এবং আলী লারিজানি। তবে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে লারিজানি নেই, কারণ এ পদের জন্য জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেম হওয়া বাধ্যতামূলক।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় লারিজানির প্রভাব স্পষ্ট হয়। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন চান। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরাগচিকে লারিজানির অনুমতি নিতে বলেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হলে ‘খুব খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। তবে খামেনি পাল্টা সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করা যাবে না। সব মিলিয়ে, ইরান এখন কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।