বরিশালে ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন
সংগৃহীত ছবি
বরিশালে অসৎ আচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন, বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই আবেদন করেন।
এদিকে, বরিশালে আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলেও বিচার কার্যক্রম সচল রেখেছে আদালত কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫টি কোর্ট এ বিচার কাজ সচল ছিল।
বিচার প্রত্যাশী কম থাকলেও বেশ কয়েকটি কোর্টে বাদী-বিবাদীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জামিন নিয়েছেন।
বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসে ঢুকে হামলার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কুশলীসহ ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে বুধবার মামলা করা হয়। এ ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে কারাভ্যন্তরীন রয়েছেন।
এরপর সভাপতির মুক্তি দাবি, মামলা প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারককে প্রত্যাহারসহ কয়েকটি দাবিতে বৃহস্পতিবার আদালত বর্জন করে আইনজীবীরা। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪৫ কোর্টের কোনোটিতে আইনজীবীরা যাননি। তবে বিচার প্রত্যাশীরা আসার কারণে বেশ কয়েকটি কোর্টের কার্যক্রম চলমান ছিল। যার মধ্যে সিএসএম আদালতের ৫টি কোর্ট, ১১টি ট্রাইবুনাল ও ১২ টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উল্লেখযোগ্য।
তবে জজ কোর্টের ১৭টি কোর্টে বিচার প্রত্যাশী কম থাকায় সেখানে কার্যক্রম তেমন একটা ছিল না।
সিএমএম কোর্টের নাজির কামরুল ইসলাম জানান, বিচার প্রত্যাশীরা আসার কারণে কোর্ট চলমান রয়েছে। আইনজীবীরা না আসলেও মামলার বাদী-বিবাদীদের নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন বিচারকরা। এতেই মিলছে জামিন। সিএমএম, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ট্রাইবুনালের তালিকাভুক্ত ৫৭ মামলার মধ্যে ৪০টিরই শুনানি হয়েছে।
তবে এর মধ্যে সিএমএম কোর্টের ২৭ মামলার মধ্যে ২০টির শুনানি হয়। যার মধ্যে ৪টিতে জামিনও দেওয়া হয়।
বরিশাল নগরীর কাশিপুরের বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা ছিল। আমার পক্ষে আইনজীবী থাকলেও গতকাল আদালত বর্জন করার কারণে আইনজীবী আসেননি। তবে আমি নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে আদালতে জামিন পেয়েছি।
মো. হারুন অর রশীদ নামের অপর এক বিচার প্রত্যাশী জানান, নিজের জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জামিন পেয়েছেন। যদিও জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন মামলার বাদী নেপাল দেবনাথ। আদালতে তাদের পক্ষে আইনজীবী না থাকায় নিজেরাই বিচারকের নির্দেশে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৃহস্পতিবার আইনজীবী না থাকলেও এই দুজনের জামিন হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। দুপুর ২টার দিকে তারা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করে বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে। এর নেতৃত্ব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন। সন্ধ্যার পর এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য বুধবার দুপুর বারোটায় আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। তারা সরাসরি আইনজীবী সমিতির ভবনের দোতলায় সভাপতি লিংকনের কক্ষে যান। তাকে আটক করে অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ওইদিনই জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি কুশলীসহ ২০ জনকে আসামি করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার। এরপর বৃহস্পতিবার অসদ আচরণের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর ১২ আইনজীবীর সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন।
ওই বার ১২ আইনজীবীর মধ্যে রয়েছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কুশলী
আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক নাজিমউদ্দিন পান্না, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাবলু, মহানগর দায়রা জজ আদালতের এপিপি ও বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তারেক আল ইমরান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন এবং বসিরউদ্দিন সবুজ।