এপস্টেইনকাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন হিলারি

এপস্টেইনকাণ্ড নিয়ে এবার মুখ খুললেন হিলারি

হিলারি ক্লিনটন

নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটির কাছে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

সাক্ষ্যদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রয়াত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইন বা তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের কোনো অপরাধের খবর তিনি জানতেন না। এমনকি তিনি কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান, দ্বীপ বা কোনো দপ্তরে যাননি বলেও উল্লেখ করেন।

সাক্ষ্য চলাকালীন হিলারি ক্লিনটন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এই তদন্ত প্রক্রিয়াটি জনসমক্ষে হওয়া উচিত ছিল যাতে তথ্যের কোনো অপব্যাখ্যা না ঘটে। তবে তিনি কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের প্রশংসা করেন এবং সত্য উদঘাটনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকান সদস্যদের সমালোচনা করে বলেন, তারা অন্য কাউকে এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েল সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেননি।

সাক্ষ্যগ্রহণের মাঝপথে কোলরাডোর কংগ্রেস সদস্য লরেন বোবার্টের একটি কর্মকাণ্ডের কারণে শুনানি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বোবার্ট নিয়ম লঙ্ঘন করে কক্ষের ভেতর থেকে হিলারি ক্লিনটনের একটি ছবি তুলে এক রক্ষণশীল ইনফ্লুয়েন্সারকে পাঠিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে অপেশাদার আচরণ এবং সস্তা প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা দাবি করেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে নতুন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসেনি।

হিলারি ক্লিনটন তার বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এপস্টেইন নথিতে ট্রাম্পের নাম বারবার আসা সত্ত্বেও তাকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। 

অন্যদিকে, হিলারির স্বামী এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এই বিষয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষ্য দেবেন বলে নির্ধারিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেশনাল প্যানেলে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন।

কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানিয়েছেন, দীর্ঘ সাত মাস চেষ্টার পর এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং বিল ক্লিনটনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। 

যদিও ক্লিনটন দম্পতি শুরু থেকেই এই তদন্তকে রাজনৈতিক চাল হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন, তবে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ এড়াতে শেষ পর্যন্ত তারা সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।

সূত্র: বিবিসি।