স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, স্বজনপ্রীতি পরিহার করে স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে। এর ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি সহায়তা পাবেন। প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও দুইজন সমাজসেবকের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে টিম গঠন করা হবে। এই টিমের মাধ্যমে উপকারভোগীদের যথার্থতা যাচাই করে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে এবং স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করতে হবে।
শুক্রবার বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাই। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বব্যবস্থা এবং ইকো সিস্টেমের মধ্যে নতুন গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারিনি এখনও। আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় যে আমলে গড়ে উঠেছে তখন তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম ছিল না।
মন্ত্রী স্বপন আরো বলেন, আমরা গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক কাঠামোর মধ্যে আনতে চাই। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় গণমাধ্যমের যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা প্রয়োজন। বর্তমানে যে ধরনের তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমের প্রসার তৈরি হয়েছে, এর সঙ্গে যেভাবে খাপ খাওয়ানো দরকার তা এতদিনে হয়ে উঠেনি।
মন্ত্রণালয়ের কেবল দায়িত্ব নিয়েছেন জানিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারক সকলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে জনগণের কাছে অবাধ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবো। সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করবো। সেই পরিধির মাধ্যমে আমরা সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবো।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা একে অপরের পরিপূরক। আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই, যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং একইসাথে পেশাগত মানদণ্ড বজায় থাকবে।
বরিশাল আদালত পাড়ার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলবো। সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়ার পরেই আইনমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ করবো।
এর আগে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১ জন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিআরটিএ’র অনুদানের ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সড়ক দুর্ঘটনা রোধের প্রসঙ্গে বলেন, চালক, পথচারী এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় যারা নিয়োজিত তাদেরকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবহন শ্রমিক নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, হয়রানি, ট্রাফিক আইন অমান্য করাসহ যত্রতত্র ধর্মঘট করার ফলে জনজীবনকে নানা রকম ভোগান্তিতে ফেলে দেয়। এই অরাজকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো ধরনের আইন বহির্ভূত কাজ করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ ও পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, বরিশাল বিআরটিএ পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান প্রমুখ