মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ১৫
প্রতিকি ছবি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার ইফতারের আগ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ১০/১২টি দোকান ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের ইটপাটকেলের আঘাতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র্যাব-১৪ ঘটনাস্থলে সাঁজোয়া যান নিয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা শহরের আটানী বাজারের ছোট মসজিদ মোড়ে শুক্রবার দুপুরে ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পাশের দোকানের মালিক সোহেল ও খোকন তাদের শান্ত করেন। পরে বিকালে পাড়াটঙ্গী এলাকার লোকজন এসে খোকন ও সোহেলের মনসুর স্টোর ও গোডাউন ভাঙচুর করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ডাকে শনিবার বিকালে উভয় পক্ষ বৈঠকে বসে। তবে বৈঠকের একপর্যায়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। পুলিশ তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ইফতারের পর তারাটি ও পাড়াটঙ্গী এলাকার প্রায় দুই শতাধিক লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালায়। পুলিশ বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয় এবং এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, তারাটি ও পাড়াটঙ্গী দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দোষী ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।