নারীর ক্ষমতায়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয় : মিফতাহ্ সিদ্দিকী
সংগৃহীত ছবি
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের কথা বলতে গেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। তার নেতৃত্বে দেশের নারীরা রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গ্রামীণ নারী থেকে শহরের শিক্ষিত নারী—সবার আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে তিনি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।
রবিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা মহিলা দল আয়োজিত অদম্য নারী সম্মাননা, কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নারীর শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। নারীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি—এসব উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নের পথকে সুদৃঢ় করেছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের ‘অদম্য নারী সম্মাননা’ সেইসব সংগ্রামী নারীদের প্রতি সম্মান, যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছেন। নারীর উন্নয়ন ছাড়া একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব জায়গায় নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বেগম জিয়ার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ফ্যামেলি কার্ড চালু করেছে। নারীরা আর পিছিয়ে থাকবে না, ইনশআল্লাহ।
সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্নার সভাপতিত্বে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন কোনো দয়া নয়—এটি একটি জাতির অগ্রগতির অপরিহার্য শর্ত। যে সমাজ নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, সেই সমাজই সত্যিকার অর্থে উন্নত ও মানবিক হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর নেতৃত্বের যে শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও সিওমেক ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট উইমেন চেম্বারের পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালেকের সহধর্মিণী দিলারা মালিক এবং সিলেট মহানগর মহিলা দলের সভাপতি নিগার সুলতানা ডেইজী।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘অদম্য নারী সম্মাননা’ দেওয়া হয়। তারা হলেন—আন্দোলন-সংগ্রাম ও নারী উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট জেলা মহিলা দলের সভাপতি সালেহা কবির শেপী, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য সিলেট জেলা বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক সুলতানা রহমান দিনা, সফল নারী উদ্যোক্তা জলি পুরকায়স্থ ও মোছা. রিমা বেগম এবং কারানির্যাতিতা নারীনেত্রী বিলাতুন নেছা। কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—মোছা. রিমা বেগম, বন্যা সিদ্দিকী ও ফাহিমা আক্তার ফাইজা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রুজি, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা হাবিবা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি সালেহা কবির শেপী, জান্নাত জামান চৌধুরী, হালিমা বেগম বিলকিস, শেখ নাজমা বেগম, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, বিলকিস আক্তার, রিমা বেগম, রেহানা আক্তার বর্ষা, আসমা আলম, শাফিয়ামখাতুন মনি, হাফসা খান, রিনা আক্তার, রাহিলা জেরিন, ফাতেমা আক্তার পারুল, রেহানা ফারুক শিরিন, ফাতেমা আক্তার সানদানি, জলি পুরকায়স্থ প্রমুখ।