ভোলায় বসত ঘরে ঢুকে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
প্রতিকী ছবি
ভোলা সদর উপজেলায় নিজ বসতঘরে হালিমা খাতুন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার এবং ঘরে রাখা জমির দলিল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিমা খাতুন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মফিজল সিকদারের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে মো. নাগর জানান, তারা তিন ভাই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা বাড়িতে থাকেন। তার বাবা-মা আলাদা বাড়িতে বসবাস করতেন। বুধবার সন্ধ্যায় ইফতার শেষে হালিমা খাতুন ছোট ছেলে হারুনের বাসায় যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি নিজ ঘরে ফিরে আসেন।
এদিকে তার বাবা মফিজল সিকদার পাশের মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে দেখেন হালিমা খাতুন রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। এ সময় তার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাশের ঘরে থাকা ট্রাঙ্কের তালা ভাঙা এবং ভেতরের মালামাল ছড়ানো অবস্থায় ছিল। ট্রাঙ্কে থাকা জমির দলিল, নগদ টাকা ও কিছু মূল্যবান জিনিসপত্রও পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে ডেকে আনা হলে তিনি হালিমা খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে নাগর অভিযোগ করে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় আব্দুল লতিফ ও তার চাচা তোফাজ্জল সিকদারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলছে। চাচার সঙ্গে বিরোধ মিটে গেলেও আব্দুল লতিফের সঙ্গে এখনো বিরোধ রয়েছে।
এর আগে জমি নিয়ে তার মাকে দুইবার মারধর করা হয়েছিল এবং একবার ঘর থেকে জমির দলিলও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার সন্দেহ করছেন পরিবার।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতাহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করেছি। তার শরীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’