ডিএনসিসির বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু
সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। শনিবার (১৪ মার্চ) থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে সংশ্লিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা অংশ নেন। কর্মসূচি তদারকি করেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
ডিএনসিসির আওতাধীন ১, ৫, ১৩, ১৯, ৩০ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে প্রায় ১১০ জন মশক কর্মী অংশগ্রহণ করেন। মাঠপর্যায়ে ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম, লিফলেট বিতরণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। একই সঙ্গে নগরবাসীকে বাসাবাড়ি, অফিস ও আশপাশের পরিবেশে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।
এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে একই সঙ্গে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে ড্রেন, খাল এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। এতে অন্তত ২০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অংশ নেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার এ কর্মসূচি চলবে।
ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার সূচকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।