ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ঠেকাতে বিআরটিএর আগাম প্রস্তুতি

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ঠেকাতে বিআরটিএর আগাম প্রস্তুতি

সংগ্রহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে আগাম উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। মহাসড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে চালকদের সতর্ক করতে উভয় পাশে লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে।

রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্কতামূলক পতাকা স্থাপন করে।

প্রতিটি বাঁকের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে ৫টি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে, যাতে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারেন।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের যেসব ৯টি বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি রয়েছে সেগুলো হলো—লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগের ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া রাজাঘাটা বাঁক, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি সংলগ্ন বাঁক, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর সংলগ্ন বাঁক এবং পটিয়ার পাইরুল নিমতল মাজার সংলগ্ন বাঁক। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বাঁকে গত কয়েক বছরে ছোট-বড় অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লে এই মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে লাল পতাকা স্থাপন করা হয়েছে, যেন চালকেরা আগে থেকেই সতর্ক হতে পারেন। আশা করছি এটি দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু পতাকা স্থাপন নয়, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া বাঁকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে।

ওই ঘটনার পর থেকেই মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন পরিবহন চালক জানান, রাতের বেলা বা কুয়াশায় এসব বাঁক হঠাৎ সামনে পড়ে যায়। আগে কোনো সতর্ক সংকেত না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি ছিল। এবার আগাম প্রস্তুতির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা মনে করছেন।

সড়ক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অস্থায়ী লাল পতাকা নয়, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে স্থায়ী সাইনবোর্ড, স্পিড লিমিট নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি।

পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।