রাবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম
ড. মো. ফরিদুল ইসলাম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকাল ৪টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রাবি উপাচার্য হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম রাবি শাখা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তিনি অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর ৮ আগস্ট উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। এরপর রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ এর ১১ (২) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীবকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই হিসেবে অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬তম উপাচার্য।
জানা গেছে, রাবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের জন্ম রাজশাহীতে। রাজশাহী মাসকাটাদিঘি স্কুল থেকে মাধ্যমিক, নিউ গভ: ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ১৯৮৯ সালে মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান এবং ১৯৯০ সালে মার্কেটিং বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথমস্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
২০০৬ সালে সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি এবং ২০১৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপনায় নিযুক্ত। তিনি ১৯৯৬ সালে মার্কেটিং বিভাগে প্রভাষক যুক্ত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে সহকারী অধ্যাপক, ২০০৬ সালে সহযোগী অধ্যাপক ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ২০১৪ সাল হতে ২০১৫ সাল অবধি মালয়েশিয়ার সারাওয়াকের কার্টিন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক ছিলেন।
এছাড়া ট্যুরিজম মার্কেটিং এর ওপর তার বহু গবেষণা প্রবন্ধ দেশি বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
২৬তম উপাচার্য হিসেবে নাম ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, প্রজ্ঞাপন এখনো হাতে আসেনি। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, শিক্ষার উন্নয়ন ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে আত্মনিয়োগ করবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তুলতেও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সুষ্ঠুভাবে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।