বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে ১ শতাংশের বেশি কমেছে তেলের দাম। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপের রূপরেখা ঘোষণা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে ইউরোপের প্রধান দেশগুলো, জাপান ও কানাডা যৌথ উদ্যোগে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়ায় কমতে শুরু করে তেলের দাম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে (জিএমটি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ১ দশমিক ৫৮ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ০৭ ডলারে নেমে আসে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১ দশমিক ৩০ ডলার বা ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
যদিও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরুতে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছিল, পরে দাম কিছুটা কমে।
এদিকে শুক্রবার মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, জলপথে আটকে থাকা ইরানি তেলের চালানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এশিয়ার দেশগগুলোতে ইরানি তেলের সরবরাহ পৌঁছাবে।
তিনি আরও বলেন, এশিয়ায় আরও তেলের প্রয়োজন এবং কৌশলগত মজুদ থেকে সমন্বিতভাবে তেল ছাড়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা পালন করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই তেল ছাড়া হবে।
মূলত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক, আরব আমিরাত এবং কুয়েত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ইরান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
এরমধ্যেই গতকাল বুধবার রাতে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে, যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র বলে বিবেচিত' হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।
কাতারের রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, তাদের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অন্তত দু’বার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ অচল হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি মেরামত করতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এরপরই বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এই ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
রয়টার্স বলছে, চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্ন এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স