নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানো জঘন্য চারিত্রিক স্খলন

নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানো জঘন্য চারিত্রিক স্খলন

ছবি: সংগৃহীত

নিজের অপরাধ গোপন করতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া মুনাফিকের অন্যতম বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যা এ ধরনের কাজের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। রাসুলুল্লাহ (স.) মুনাফিকের লক্ষণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে।’ (সহিহ বুখারি) সুতরাং নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানোর অর্থ হলো- একই সাথে মিথ্যাচার এবং অন্যকে নিজ জিহ্বা বা হাতের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত করা, যা একজন আদর্শ মুমিনের চরিত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক নষ্ট করা ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের একটি মৌলিক নীতি হলো, আল্লাহ তাআলা বান্দার ব্যক্তিগত অনেক গুনাহ ক্ষমা করলেও বান্দার হক বা ‘হাক্কুল ইবাদ’ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ততক্ষণ ক্ষমা করেন না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা ক্ষমা করেন। নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপালে মূলত তিনটি অপরাধ সংঘটিত হয়: মিথ্যাচার, জুলুম এবং ওই ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা নষ্ট করা। রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কেয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।’ (সহিহ মুসলিম রাসুলুল্লাহ (স.) মুসলিমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অন্যকে নিরাপদ রাখার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে নবী (স.) বলেছেন- ‘প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি ও মুসলিম)