স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে জামায়াতের মহিলা বিভাগের শুভেচ্ছা

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে জামায়াতের মহিলা বিভাগের শুভেচ্ছা

প্রতিকী ছবি।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা। একই সাথে দেশকে একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি। আজ পঁচিশে মার্চ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ আহবান জানান।

মহিলা বিভাগের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারী নাজমুন নাহার নীলুর পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২৬শে মার্চ রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অগণিত মা-বোনের ইজ্জত আর লাখো শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা দিবস। এই গৌরবময় দিনে আমি দেশ ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি ভাই-বোন, বিশেষ করে প্রিয় মা ও বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও লাল সালাম।

নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেইসব অকুতোভয় বীর সন্তানদের, যাঁদের বুকের তাজা রক্তে ভিজেছে বাংলার মাটি। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেইসব মা ও বোনদের, যাঁদের সীমাহীন ত্যাগ আমাদের এই মানচিত্র উপহার দিয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দ নয়; স্বাধীনতা মানে শোষণমুক্ত সমাজ, স্বাধীনতা মানে ইনসাফ আর মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। কিন্তু আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও যখন আমাদের চারপাশে তাকাই, তখন দেখি অধিকার বঞ্চিত মানুষের হাহাকার। আমাদের দেশের নারীরা আজও পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ঘরে-বাইরে নারীদের যে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা ইসলাম নিশ্চিত করেছে, তা আজও সমাজ ও রাষ্ট্রে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

দিবসটি উপলক্ষে তিনি আরও বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে কোনো নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হবে, মানুষ অনাহারে থাকবে কিংবা নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে-এটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনা নয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রতিটি মা তাঁর সন্তানকে নিরাপদ পরিবেশে বড় করতে পারবেন, প্রতিটি বোন নির্ভয়ে পথ চলতে পারবেন।

আমার প্রিয় বোনদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, আসুন, স্বাধীনতার এই দিনে আমরা নতুন করে শপথ গ্রহণ করি। ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির অন্ধকার দূর করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। আমাদের সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলি, যাতে তারা আগামী দিনে একটি জুলুমমুক্ত ও ইনসাফপূর্ণ সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারে।

অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা রক্ষায় চলুন একসাথে গড়ি বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং দেশবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের জন্য এক হয়ে কাজ করি।

এদেশকে একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে আসুন ঐক্যবদ্ধ হ‌ই।যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচত হোক আগামীর বাংলাদেশ।

মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ এবং সকল শহীদদের কবুল করার তৌফিক কামনা করছি। আমীন।