ঈদের ছুটিতেও সচল বন্দর, কনটেইনার ডেলিভারি কম
ফাইল ছবি
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকলেও আমদানি পণ্যের ডেলিভারি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম হয়েছে। গত ১৭ মার্চ বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৩৮ হাজার ১৪১ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান)। ২৪ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউএস। অর্থাৎ আট দিনে কনটেইনার বেড়েছে ৫ হাজার ৫৯ টিইইউএস। ডেলিভারি কম হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার টিইইউএস হওয়ায় এখনো অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়নি।
বন্দর সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়। কিন্তু ১৯ মার্চ ২ হাজার ১৬৬, ২১ মার্চ ৭৫৩ টিইইউএস কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। ২২ মার্চ কোনো ডেলিভারি হয়নি। ২৩ মার্চ ১ হাজার ১৮৯ এবং ২৪ মার্চ ১ হাজার ৫৮১ টিইইউএস ডেলিভারি হয়। কল-কারখানা বন্ধ এবং মহাসড়কে পণ্যবাহী যান কম চলার কারণে প্রতি ঈদের ছুটিতে ডেলিভারি কমে যায় এবং বন্দরে কনটেইনারের চাপ বাড়ে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, ঈদের ছুটির মধ্যেও বন্দর অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৭-২৩ মার্চ সাত দিনে ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ২৮ হাজার ৯৬১ এবং রপ্তানি পণ্য ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউএস। ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউএস কনটেইনার প্রসেস করা হয়।
একই সময়ে বন্দরে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ এবং রপ্তানি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন। ১৮ মার্চ একদিনে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।
এ সপ্তাহে বন্দরে ৬৪টি জাহাজ বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়। ছুটির আমেজ কাটিয়ে ২৩ মার্চ ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে বন্দর পূর্ণ গতিতে ফিরে আসে।