কুমিল্লার নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ১০ দফা প্রস্তাবনা
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লা নগরীর সার্বিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে নানা বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাবনা তুলে ধরে সিটি করপোরেশন প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কুমিল্লার নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন নাগরিক অধিকার ফোরাম। সোমবার সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এর আগে প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সভাপতিত্বে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, নাগরিক ভোগান্তি এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অতীতে যারা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। কারণ, এ ক্ষেত্রে তারা নগরবাসীর পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি।
তিনি বলেন, একটি নগরীকে সুন্দর রাখতে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, নগরবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে। ক্লিনিক মালিকদের তাদের ক্লিনিক পরিষ্কার রাখা, বাড়ির মালিকদের নিজেদের আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং মার্কেট মালিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নাগরিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান। সংগঠনের সভাপতি ডা. প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ স্মারকলিপির মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র কুসিক প্রশাসককে অবহিত করেন।
স্মারকলিপিতে নগরীর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে নগরীর পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে “পরিচ্ছন্ন কুমিল্লা” নামে একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
নগরীর যানজট সমস্যার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। স্মারকলিপিতে জলাবদ্ধতার সমস্যাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনে ময়লা না ফেলা এবং পলিথিন ব্যবহার কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস, ড্রেনের পানি নিষ্কাশন সচল রাখা এবং বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও বারান্দায় জমে থাকা পানি অপসারণে জনগণকে সচেতন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নাগরিক সেবার আধুনিকায়নের বিষয়টিও স্মারকলিপিতে গুরুত্ব পেয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান, জামিল আহমেদ খন্দকার, সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম, সহ সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, যুগ্ম সম্পাদক রাহুল তারণ পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন, অর্থ সম্পাদক অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার, প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ লাভলু, নির্বাহী সদস্য কাজী ফখরুল আলম, মীর সোহেল, সদস্য মোসা. শাহানা আক্তার প্রমুখ।