বুড়িচংয়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ ঘরে রেখেই সংঘর্ষে আহত ৮
সংগ্রহীত ছবি
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্বামীর ঘরে মিনুয়ারা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লাশ ঘরে রেখেই নিহতের বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ির লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই এলাকার ইউপি সদস্যসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। মৃত্যুর পর ১২ ঘণ্টা পার হলেও সম্পন্ন হয়নি দাফন।
এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের শেষে নিহত নারীর স্বামী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত মিনুয়ারা বেগম ওই এলাকার হোসেন মিয়ার স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের কালিকাপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হোসেন মিয়ার বসতঘর থেকে মিনুয়ারা বেগমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে এসআই রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এদিকে, লাশ উদ্ধারের আগে নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন লাশ দেখতে এলে স্বামীর বাড়ির লোকজন বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি মহিলা সদস্য নাজমা আক্তারসহ ৮ জন আহত হন।
ঘটনার পর নিহতের ভাই আবু জাহের শিমুল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার বোনকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
নিহতের স্বামী হোসেন মিয়া ও ছেলে রিপন মিয়া দাবি করেন, সকালে নাস্তা শেষে হোসেন মিয়া জমিতে কাজ করতে যান। পরে ঘরে ফিরে দরজা-জানালা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে মিনুয়ারাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা এবং এর পেছনের কারণ তারা জানেন না।
স্বামীর পরিবার আরো অভিযোগ করে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে আনার পরেও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে দাফন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ বাহী ফ্রিজিং গাড়িতে ওই নারীর মরদেহ রাখা ছিল। বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ার প্রতিপক্ষের বাধার কারণে লাশ দাফন করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমা আক্তার বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে আমি থামাতে গেলে আঘাতপ্রাপ্ত হই।’
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের শেষে স্বামী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’