বৈশাখ সামনে রেখে রংপুরে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ

বৈশাখ সামনে রেখে রংপুরে অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

পহেলা বৈশাখ ঘিরে শুরু হয়েছে অনলাইনে ইলিশ প্রতারণা। বৈশাখ উৎসবকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র রমরমা ব্যবসা করছে। প্রতারক চক্রটি শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য পণ্যেও লোভনীয় অফার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকে প্রতারিত হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সরকারি এক কর্মকর্তা ও একজন শিক্ষিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইনে ইলিশের একটি প্রচারণা দেখতে পান। তারা অনলাইন ইলিশ বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদেরকে ওই বিক্রেতা বলেন, টাকা এই নম্বরে পাঠান, আমরা হোম ডেলিভারি করে দেব। সরল বিশ্বাসে তারা টাকা পাঠান, কিন্তু হোম ডেলিভারি আর আসে না। এভাবে চলে যায় ৫ থেকে ৭ দিন। এক সময় তারা বুঝতে পারেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। তাদের কাছে টাকার অঙ্ক জানতে চাইলে তা প্রকাশ করেননি। তবে তাদের কথাবার্তায় বোঝা গেছে, অনলাইনে ইলিশ কিনতে গিয়ে তারা কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা খুইয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন উপহাস করবেন—এই লজ্জায় তারা থানায়ও ডায়েরি করেননি।

এক পুলিশ কনস্টেবল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি পণ্যের অফার পান। অফারের নিচে লেখা ছিল, ‘এখানে ক্লিক করুন’। ওই স্থানে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে তার মোবাইল অ্যাকাউন্টে যত টাকা ছিল, তা চলে যায় প্রতারক চক্রের কাছে।

বৈশাখকে ঘিরে ইলিশ প্রতারক চক্র শুধু রংপুর মহানগরী নয়, পুরো বিভাগে প্রচারণার জাল বিছিয়েছে। তাদের প্রথম টার্গেট চাকরিজীবী মানুষ। কারণ তারা একটু বেশি ব্যস্ত থাকেন। প্রতারিত হলে লজ্জায় কাউকে কিছু বলতেও পারেন না। ফলে প্রতারক চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

পুলিশের একটি সূত্র মতে, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার ৬টি থানায় অনলাইন প্রতারণা বিষয়ক একাধিক জিডি রয়েছে।

এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, সম্প্রতি এক পুলিশ কনস্টেবল অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে একটি অভিযোগ করেছেন। বৈশাখকে ঘিরে প্রতারক চক্র গড়ে উঠলে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তিনি অনলাইনে কেনাকাটা করার বিষয়ে মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।