মাথা গোঁজার ঠাঁই চায় আমিরাতে যুদ্ধে নিহত শাহ আলমের পরিবার

মাথা গোঁজার ঠাঁই চায় আমিরাতে যুদ্ধে নিহত শাহ আলমের পরিবার

সংগৃহীত ছবি

মাথা গোঁজার ঠাঁই চায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত কুমিল্লার শাহ আলমের পরিবার। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের বাসিন্দা তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সময় সৃষ্ট ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনি নিহত হন। শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ আটদিন পর নিজ গ্রামে পৌঁছে। ৯ এপ্রিল বিকেলে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরিবারের সূত্র জানায়, গত বুধবার (১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা (স্থানীয় সময় ভোর ৬টা) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শাহ আলম ভূঁইয়া নিহত হন।

ওই দিন ভোরে এলাকায় বিপদ সংকেত বাজানো হলে লোকজন নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে শাহ আলম ধ্বংসাবশেষে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এদিকে তার মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্ত্রী নয়না আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের কী দিয়ে মানুষ করব? তাদের নিয়ে যে খাব, সেই সামর্থ্যও আমার নেই। আমার মাথা গোঁজারও কোনো ঘর নেই। তিন লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। সরকার যদি সহযোগিতা করে, তাহলে আমি সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাব।’

বড় দুই ভাই দুলাল মিয়া ও থোরশেদ আলম বলেন, ‘শাহ আমাদের কাঁধে করে মাটি দেওয়ার কথা ছিল। আজ আমরা তাকে কাঁধে করে মাটি দিলাম—এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে? সে ৮–১০ বছর বিদেশে ছিল, তেমন কিছুই করতে পারেনি। আমাদেরও তেমন সামর্থ্য নেই। সরকার সহযোগিতা করলে পরিবারটি বেঁচে যাবে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও তেমন আয় করতে পারেননি। তার পরিবারের একটি ভাঙা টিনের ঘর রয়েছে। পরিবারের সহযোগিতার জন্য আমরা প্রশাসনের নিকট আবেদন করবো।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, শাহ আলমের মৃত্যুর খবরে আমরা তার বাড়িতে গিয়েছি। তার পরিবারকে সহযোগিতার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।