মোদিকে কটাক্ষ মমতার, ভোটের মুখে তীব্র আক্রমণ
ফাইল ছবি
বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর শনিবার দিনভর একাধিক সভা ও পদযাত্রায় অংশ নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ জানালেন। একাধিক সভা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ভাষণ মানেই মিথ্যের ফুলঝুরি।
শনিবার দুপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, তিনি নাকি দেশের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, কিন্তু সেই ভাষণে বাস্তবের প্রতিফলন থাকে না। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা না তুলে বারবার ভিন্ন প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে।
একই সভায় তিনি আরও বলেন, দেশে লুটপাট চলছে এবং সাধারণ মানুষ তার প্রভাব অনুভব করছেন। তার কথায়, বিদেশে গিয়ে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া হলেও রাজ্যে এসে ভিন্ন ধরনের কথা বলা হয়। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন।
এদিনের কর্মসূচিতে নারী ভোটারদের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, যদি তিনি যোদ্ধা হন, তবে মা-বোনেরাই তার সহযোদ্ধা। তার দাবি, দলের কর্মীরা অর্থের কাছে মাথা নত করেন না, বরং লড়াই করে এগিয়ে যান। তিনি এই লড়াইকে প্রতিরোধের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ঘটনায় শুধুমাত্র তার দলের নাম সামনে আনা হয়, অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচনের মুখে শনিবারকে ঘিরে তৃণমূলের একাধিক কর্মসূচি ছিল। রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দলীয় সভা, পদযাত্রা এবং জনসংযোগ কর্মসূচি সংগঠিত হয়। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের তীব্র বক্তব্য মূলত জনমত প্রভাবিত করার কৌশল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি আক্রমণ করে রাজ্যের স্বার্থ রক্ষার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ধারাবাহিক আক্রমণ রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলছে। আগামী দিনে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।