হাওড়ে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওড়ের বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকট নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলার তিনটি স্থল শুল্ক স্টেশনে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সীমান্তজুড়ে মাইকিং করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়, তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। উপজেলার একমাত্র বোরো ফসল দ্রুত ঘরে তুলতে যাতে কোনো ধরনের শ্রমিক সংকট না দেখা দেয়, সে লক্ষ্যে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক সমিতির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী স্থল শুল্ক স্টেশনে কয়লা ও চুনা পাথর পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন কার্যক্রমও এই সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ খসরুল আলম জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে হাওড়ের ধান কাটায় শ্রমিক সংকট দূর করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে করে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ধান কাটার কাজে যুক্ত হতে পারবেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী স্থল শুল্ক স্টেশন বন্ধ রাখার পাশাপাশি যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক হাওড়ের ধান কাটার কাজে অংশ নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সময়মতো ধান ঘরে তুলতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চলতি মৌসুমে শ্রমিক সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। তাহিরপুর উপজেলার এসিল্যান্ড শাহারুখ আলম সান্তনু বলেন, হাওরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট নিরসনে ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার যাদুকাটা নদীর বালি মহাল ও তাহিরপুরের বড়ছড়া চারাগাও বাগলী শুল্কস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।