যেসব খাবার ফ্যাটি লিভারের জন্য দায়ী, লক্ষণগুলো কী

যেসব খাবার ফ্যাটি লিভারের জন্য দায়ী, লক্ষণগুলো কী

সংগৃহীত ছবি

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বর্তমানে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল অ্যালকোহল বা বাইরের তেল-ঝাল যুক্ত খাবারই নয়, বরং বাড়ির তৈরি বেশ কিছু খাবারের অভ্যাসের কারণেও এই রোগ লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট এবং হিডেন সুগারের ভুল ব্যবহার এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক। অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলের জেরেই হানা দেয় এই মেটাবলিক রোগ, যার অন্যতম কারণ খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম।

কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ ফাস্টফুড না খেয়েও ভুগতে হচ্ছে ফ্যাটি লিভারে। বাড়ির তৈরি খাবারেও বাড়ছে ফ্যাটি লিভার। এক্ষেত্রে অনেকেরই প্রশ্ন, কোন ধরনের খাবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে লিভারের? আসুন জেনে নেওয়া যাক

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার কী?

পাঁচশরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে লিভার। ফ্যাট ও শর্করা মেটাবলিজম, বিষাক্ত পদার্থ ডিটক্সিফাই করা এবং শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ভুল ও অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার জেরে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট এবং রিফাইন্ড চিনি লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো লিভার কোষে চর্বি জমতে শুরু করে। একেই বলে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। এই রোগের পেছনে মূলত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাসই দায়ী। মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের এমনটাই মতামত।

 

 

ভাজাপোড়া খাবার কীভাবে লিভারের ক্ষতি করে?

ডুবো তেলে ভাজা খাবারে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। বিশেষত একই তেল বার বার ব্যবহার করা হলে, তা বিষে পরিণত হয়। এ প্রসঙ্গে মেডিসিন বিশেষজ্ঞের মতামত, ‘ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া লিভারে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ায়, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। এগুলোই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ।’ 

সময় থাকতে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরবর্তী সময়ে অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো-হেপাটাইটিস, ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়।

এই ধরনের খাবার শুধু যে লিভারের জন্য ক্ষতিকর তা নয়। উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার ভাজার সময়ে তার পুষ্টিগুণ ভেঙে যায় এবং ট্রান্স ফ্যাট জমতে থাকে। এগুলো ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিনি কীভাবে ফ্যাটি লিভার ডেকে আনে?

অধিকাংশ মিষ্টি খাবারে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি থাকে। বিশেষ করে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ। ডা. জয়দীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ফ্রুক্টোজ প্রধানত লিভারে বিপাক হয়। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে ফ্যাটের মাত্রা বাড়ায়। পাশাপাশি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বাড়ে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই ওজন বাড়ে এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও তৈরি হয়। এই অবস্থাকে ‘লিন এনএএফএলডি’ বলে।

ফ্যাটি লিভারের লক্ষণগুলো কী কী?

ডা. জয়দীপ ঘোষ বলেন, ‘এনএএফএলডি সাধারণত নিঃশব্দে বাড়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ থাকে না।’ তবে সময়ের সঙ্গে উপসর্গগুলো জোরালো হতে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, পেটের উপরের দিকে অস্বস্তি, ওজন বাড়তে থাকা এবং বিপাকীয় সমস্যা দেখা দেওয়াই এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের উপায় কী?

ডা. জয়দীপ ঘোষের মতে, ‘রোগ এড়াতে খাদ্যতালিকা সম্পূর্ণরূপে বদলে ফেলার দরকার নেই। বরং পরিমিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।’ তিনি কিছু পরামর্শও দিয়েছেন, যেমন—

ভাজা খাবার কম খান—প্রতিদিন নয়, মাঝেমধ্যে। 

রান্নায় চিনির পরিমাণ কমান, এড়িয়ে চলুন চিনি মেশানো পানীয়। 

স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করুন—ভাপানো, গ্রিল বা কম তেলে রান্না। 

খাবারের প্লেটে ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ান—সবজি, ডাল, শস্য ও লিন প্রোটিন। 

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন—সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট। 

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন—লিভার ফাংশন টেস্ট, লিপিড প্রোফাইল টেস্ট ও আল্ট্রাসাউন্ড।