প্রচণ্ড গরমে অস্বস্তি: ডিহাইড্রেশন না হিট স্ট্রোক বুঝবেন কী করে?
ছবি: সংগৃহীত
হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন—তীব্র গরমে দুটো সমস্যাই অনেক বেশি দেখা যায়। প্রচণ্ড গরমে ঘুরলে বেড়ে যায় হিট স্ট্রোকে ঝুঁকি। আবার অত্যধিক ঘামের কারণে শরীর হয়ে পড়ে পানিশূন্য। দুটো সমস্যাই তীব্র অস্বস্তির জন্ম দেয়। কিন্তু অনেকেই বুঝতে পারেন না, ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন না কি হিট স্ট্রোকে? এই দ্বন্দ্বে কী করা উচিত নাও বোঝেন না।
হিট স্ট্রোক আর ডিহাইড্রেশনের মধ্যে পার্থক্য কী? কোন সমস্যায় কী ব্যবস্থা নেবেন? চলুন বিস্তারিত জানা যাক-
হিট স্ট্রোক কতটা মারাত্মক হতে পারে?
গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ হিট স্ট্রোক। কারণ এটি আচমকায় দেখা দেয়। তখন হঠাৎ করেই শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। রক্তনালি প্রসারিত হয়ে যায়। অতিরিক্ত তাপমাত্রা শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগীর প্রত্যঙ্গগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অনেকসময় রোগী অজ্ঞানও হয়ে যায়। এই হিট স্ট্রোক অনেকসময়ে এতটাই মারাত্মক হয় যে রোগীর প্রাণসংশয়ের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ কী কী?
- হঠাৎ করে পেশিতে খিঁচুনি শুরু হয়
- শরীর অত্যধিক গরম হয়ে যায়
- শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
- শরীরজুড়ে অস্বস্তি কাজ করে
- অনেকসময় রোগী চোখে অন্ধকার দেখে এবং অজ্ঞান হয়ে যায়
- কারও কারও বমিও হয়।
গরমে কখন ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়?
শরীরে পানির ঘাটতি হলেই ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন। অত্যধিক গরমে শরীরে প্রচণ্ড ঘাম হয়। এই ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও খনিজ বেরিয়ে যায়। তখন শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। এমনটা হলে পর্যাপ্ত পানি, ওআরএস স্যালাইন, লবণ-চিনির শরবত কিংবা লেবুর শরবত খেলে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
কীভাবে বুঝবেন ডিহাইড্রেশন হয়েছে?
ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো হিট স্ট্রোকের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে ডিহাইড্রেশন হলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে না। ঠোঁট ও মুখের চারপাশ শুকিয়ে যায়। প্রবল ঘাম হয় এবং শরীরজুড়ে ক্লান্তি কাজ করে। পানির ঘাটতিতে কারও কারও তীব্র মাথা ব্যথা হয়।
হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশন কখন হয়?
গরমকালে পর্যাপ্ত পানি না খেলেই শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে। ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে পানি বা ওআরএস খেলে শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়। ঘন ঘন পানি খেলে এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় খেলে গরমে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয় না। কিন্তু হিট স্ট্রোক যখন তখন ঘটতে পারে।
বিশেষত দীর্ঘক্ষণ রোদে ঘোরাঘুরি করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রোদে বের হলে ঢিলে পোশাক পরুন। সঙ্গে রাখুন ছাতা, সানগ্লাস, পানির বোতল। তাপপ্রবাহের মধ্যে নাক-মুখ ঢেকে রাস্তায় বের হোন।
হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন?
হিট স্ট্রোক হলে রোগীকে ঠান্ডা বা ছায়া রয়েছে এমন জায়গায় বসান। মুখে-চোখে, ঘাড়ে ঠান্ডা পানির ঝাপ্টা দিন। রোগীকে ঠান্ডা পানি বা ওআরএস স্যালাইন খাওয়ান। গায়ের পোশাক আলগা করে দিন দিন। অস্বস্তি না কমলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।