নিষেধাজ্ঞা না মেনে সাগরে ধরা হচ্ছে মাছ, রাতে বেচাকেনা
ফাইল ছবি
পাথরঘাটা পৌর শহরে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে (বিএফডিসি) দিনে সুনসান নীরবতা। রাত হলেই দৃশ্যপট বদলে যায়। রাত যত গভীর হয়, কোলাহল তত বাড়ে। ভোরের আলো ফোটার আগেই নীরবতা ফিরে আসে। সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একই রকম চিত্র অদূরে সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইসঘাট, হাজিরখালসহ আরও কয়েকটি পয়েন্টে।
সাগরে মাছ আহরণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ১৫ এপ্রিল শুরু হয়েছে। এরপর থেকেই দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মৎস্য মোকাম বিএফডিসিসহ কয়েকটি পয়েন্টে রাতে মাছের পাইকারি বাজার বসছে।
পাথরঘাটা শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সাগর। অবৈধভাবে মাছ ধরার ট্রলারগুলো মাছ নিয়ে গভীর রাতে ফিরে আসে। প্রকাশ্যে ডাক তুলে বিক্রি হয় মাছ। রাত আনুমানিক ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত লাখ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই হচ্ছে এসব। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হলেও এটি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা ও বিক্রিতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা দিচ্ছে স্থানীয় একটি চক্র। তাদের কাছে প্রশাসনও অসহায়।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক সোমবার রাত ২টার দিকে বিএফডিসি কেন্দ্রে অভিযান চালান। মায়ের দোয়া নামের একটি ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ করেন।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নদীর জাটকা (৯ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ) এই সময়ে সাগরে চলে যায়। নিরাপদ প্রজনন ও জাটকা বড় হওয়ার সুযোগ দিতে প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, পাথরঘাটার প্রশাসনকে মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বরফভর্তি ট্রলার মাছ ধরার জন্য সাগরে যাচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিন মাছ শিকার করে রাতের আঁধারে ট্রলারগুলো পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে ফিরে আসে।