মিটফোর্ড হাসপাতালে অভিযানে ৩০ দালাল আটক

মিটফোর্ড হাসপাতালে অভিযানে ৩০ দালাল আটক

প্রতিকি ছবি

 

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।  

বুধবার সকালে এনএসআই ও র‌্যাব-১০ এর যৌথ অভিযানে ৩০ দালালকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৬ দালালকে ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আটক অন্য ১৪ দালালকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তারা যেন আর হাসপাতাল এলাকায় না যায়।

জরিমানা করা দালালরা হলো- মনিরুজ্জামান, এমদাদ, আলমগীর মিয়াজি, রিতা লাল বেঘি, ইকবাল, রাবেয়া, মোবারক হোসেন, মাসুদ রানা, আব্বাস, হামিদ, মাসুম আলী, কৌশিক, ওলি আহম্মদ, ইসরাফিল, হাসান ও জামাল। গতকাল র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত সোমবার ‘চিকিৎসা মেলে বাগানে’ শিরোনামে প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রতিদিন। উক্ত সংবাদে মিটফোর্ড হাসপাতালের অর্ধশত দালাল চক্রের রাজত্ব, আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ভাগিয়ে নেয়া, রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিয়ে টোকেনের মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠানো, হুইল চেয়ার সঙ্কটে পঙ্গু রোগীদের ভোগান্তি, চিকিৎসক দেরিতে আসায় রোগীদের লম্বা সিরিয়াল তৈরি হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম, রোগী ভর্তিতে কর্তৃপক্ষের নানা টালবাহানা করা, টিকিট কাউন্টারে লম্বা সিরিয়ালে অর্ধেক দিন পার হওয়াসহ নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়।

জানা গেছে, সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।  

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে যে কোনো সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে অভিযান পরিচালনা করতে আমাদের সুবিধা হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালের বিষয়টি বাংলাদেশ প্রতিদিন তুলে ধরায় দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে হাসপাতালটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট হাসপতালে রোগী ভাগানো ও অর্থ লেনদেনের সময় ৩০ দালালকে আটক করা হয়। পরে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু হাসান ১৬ দালালকে বিভিন্ন অংকে জরিমানা করেন। হাসপাতালটিতে দালালদের দৌরাত্ম প্রতিরোধে র‌্যাবের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।