ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলার দাবি ক্লাব সংগঠনের
ছবি: সংগৃহীত
খেলাধূলার প্রাণ ক্লাব। এই ক্লাবই ফুটবলার, ক্রিকেটার, হকি খেলোয়াড়সহ নানা খেলার খেলোয়াড়দের আতুড়ঘর। সেই ক্লাবগুলো সরকারের কাছ থেকে তেমন সহায়তা পায় না আবার ফেডারেশনগুলোও তেমন দেখভাল করে না। ফলে নানা সমস্যার মধ্যে থেকে ক্লাবগুলোকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হয়। ক্লাবগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্য 'বাংলাদেশ স্পোর্টস ক্লাব এসোসিয়েশন' আত্নপ্রকাশ করেছে।
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ঢাকার ক্লাব সংগঠকরা একত্রিত হয়েছিলেন। মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তাকুর রহমান হয়েছেন সেক্রেটারি ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এই সংগঠনের সভাপতি। কমিটির অন্য পদগুলো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেবেন তারা।
আব্দুস সালামের পরিচয় ও পদচারণা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশি হলেও তিনি মূলত ক্রীড়া সংগঠক। মতিঝিল আরামবাগ ক্লাব পাড়ায় বেড়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। তাই ক্লাবগুলোর সমস্যা নিজে অনুধাবন করেন বিধায় বলেন, 'ক্লাবগুলোর অনেক কষ্ট হচ্ছে। ঢাকার বাইরে যাতায়াত খরচ এরপর আবার ভেন্যু খরচ। লিগে পার্টিসিপেশন মানিও নেই। ক্লাবগুলো অনেক সমস্যায় আছে। আশা করি আমাদের এই বিষয়গুলো ফেডারেশন শুনবে ও দেখবে।'
জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০২১ সাল থেকে সংস্কার কাজ চলছিল। সেই সংস্কারের পর ২০২৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফিরলেও ঘরোয়া খেলা হচ্ছে না। আবাহনী, মোহামেডান ও ব্রাদার্সের মতো ক্লাবগুলো ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলার দাবি জানিয়েছিল। বাফুফে সেটা গ্রহণ করেনি। আজ ক্লাব সমিতির ব্যানারে আব্দুস সালম বলেন, 'আমরা ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলতে চাই। কমলাপুরেও খেলা হোক। এসব স্থাপনা খেলার জন্য বিশেষত ফুটবলের জন্য। এখানে মাঠ পড়ে থাকবে আর ক্লাবগুলো বাইরে গিয়ে খেলবে এটা হয় না।'
ঢাকার মধ্যে মাঠ সংকট। বিশেষ করে ফুটবল ফেডারেশন মাঠ সমস্যায় ভুগে। ক্লাব সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক। তার অঞ্চলে খেলার মাঠ উন্মুক্তকরণ বিষয়ে তিনি বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকার মধ্যে খেলার মাঠ নিয়ে কাজ করছে। আমাদের ঢাকা দক্ষিণে ইতোমধ্যে আটটি মাঠ শনাক্ত হয়েছে। আমরা সেগুলো ফুটবল ফেডারেশনকে খেলা পরিচালনা করতে দেব।'
বিগত সময়েও ক্লাব সমিতির কর্মকান্ড দেখা গেছে। সেটা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ফেডারেশনের নির্বাচনে প্রভাবও ফেলেছে। এই সমিতি কি সেদিকে হাটবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুস সালাম বলেন, 'ফেডারেশনের নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো কিছু নেই। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে কাজ করব এবং ক্রীড়াঙ্গনের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য।'
ক্লাবগুলো সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ফেডারেশনগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় ট্যাকনিক্যাল সাপোর্ট চায়। অথচ অনেক সময় ক্লাবগুলো ক্রিকেটার, ফুটবলারদের প্রাপ্য অর্থ প্রদান করে না। এ রকম সমিতি বা সংগঠন হওয়ার পর ক্রীড়াবিদদের শঙ্কা থাকে তাদের ন্যায্য অধিকার পাওয়া নিয়ে। এই বিষয়ে অবশ্য অভয় দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি, 'আমরা ক্রীড়াবিদদের অধিকারও নিশ্চিত করব। ক্লাবগুলোর আয় নেই, সংকট অবস্থা। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যই তো এই সংগঠনের উদ্যোগ।'
আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে মোহামেডানের একাধিক পরিচালক ও সাবেক ক্রীড়াবিদ ছিলেন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ছাড়া ক্লাবপাড়ার ফকিরেরপুল, ওয়ারী, ফরাশগঞ্জ, মেরিনার্সসহ ঢাকার আরো কয়েকটি ক্লাব কর্মকর্তারা এসেছিলেন। সংগঠনের গঠন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান বলেন, 'আমাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে ৬১ টি ক্লাব সম্পৃক্ত হয়েছে। ফুটবল ছাড়াও ক্রিকেট, হকি ক্লাবগুলো আমাদের সাথে আছে।'