ইরান অবরোধ অব্যাহত রেখে ট্রাম্প নিজের সুবিধাই ক্ষুণ্ণ করছেন : বিশ্লেষক

ইরান অবরোধ অব্যাহত রেখে ট্রাম্প নিজের সুবিধাই ক্ষুণ্ণ করছেন : বিশ্লেষক

ছবি: রযটার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অবরোধ অব্যাহত রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সুবিধাজনক অবস্থানকেই দুর্বল করে ফেলছে বলে জানিয়েছেন কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের হাতে কিছুটা দর কষাকষির সুযোগ আছে, কারণ ইরানিদের মতো তার একটি চুক্তির ততটা প্রয়োজন নেই।

ইরান যখন আলোচনার টেবিলে বসার কথা ভাবছে, তখন বন্দর অবরোধ জারি রেখে ট্রাম্প জানান দিচ্ছে তিনি একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নন।

এটিই দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে যোগ করেন তিনি।

পারসি আল জাজিরাকে বলেন,  ‘ট্রাম্প স্বীকার করেছিলো ইরান হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল; এতে উভয় পক্ষের জন্যই সম্মানজনকভাবে আলোচনার টেবিলে বসার পথ তৈরি হতো, কিন্তু ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তাতে রাজি হননি।’

বিশ্লেষকরা জানান, ট্রাম্প কেবল শক্তিশালী সাজার লক্ষ্যে অবরোধ জারি রেখেছেন।

যা তার নিজস্ব কূটনীতিকেই বাধাগ্রস্ত করছে । এটি ইরানকে পিছু হটার পরিবর্তে পাল্টা আক্রমণাত্মক হতে প্ররোচিত করছে।

ত্রিতা পারসি আরো বলেন, ‘অবরোধ চলাকালীন ইরান হরমোজ প্রণালীতে জাহাজ জব্দ করা এবং গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, অবরোধ ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম এবং গ্যাসোলিনের ঊর্ধ্বগতি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক বিষ হয়ে উঠতে পারে। অবরোধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হলে ট্রাম্পের নিজ ভোটারদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলেও জানান বিশ্লেষকরা।